রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

যুদ্ধবিরতি শেষ হতেই ইউক্রেনে ভয়াবহ হামলাতে নিহত ৯

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ১৪, ২০২৬, ১০:১৭ এএম

যুদ্ধবিরতি শেষ হতেই ইউক্রেনে ভয়াবহ হামলাতে নিহত ৯

ছবি: সংগৃহীত

সংক্ষিপ্ত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আবারও ভয়াবহ সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। কয়েকদিনের নীরবতার পর বুধবার সকাল থেকেই ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক ড্রোন হামলা চালায় রুশ বাহিনী। হামলার ফলে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ।

স্থানীয় সময় ভোরের পর থেকেই ইউক্রেনের আকাশজুড়ে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। রাজধানী কিয়েভসহ ওডেসা, লভিভ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরে হামলার সতর্কসংকেত বাজতে থাকে। আতঙ্কিত মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে শুরু করেন। বহু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয় এবং আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, একদিনেই প্রায় ৮০০ ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। তিনি বলেন, এটি শুধু সামরিক হামলা নয়, বরং সাধারণ মানুষের মনে ভয় তৈরি করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা। তার অভিযোগ, হামলার বড় অংশই বেসামরিক এলাকাকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে।

ইউক্রেনীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, কয়েকটি শহরে আবাসিক ভবন, গুদামঘর এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।

অন্যদিকে রাশিয়া বলছে, তারা কেবল সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করেই অভিযান পরিচালনা করেছে। ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে মস্কো।

রুশ হামলার পরপরই পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায় ইউক্রেন। সীমান্তের ভেতরে রাশিয়ার বিভিন্ন স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে কিয়েভ। বিশেষ করে ওরেনবার্গ অঞ্চলের একটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কারখানায় হামলার খবর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বুধবার ভোরে দেশটির অন্তত তিনটি শিল্প স্থাপনায় আঘাত হানে ইউক্রেনীয় ড্রোন। যদিও এসব হামলায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবুও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রুশ প্রশাসন।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই হামলা প্রমাণ করছে যে যুদ্ধবিরতির ক্ষণস্থায়ী শান্তি খুব দ্রুতই ভেঙে পড়েছে। কয়েকদিন আগেও যুদ্ধ থামাতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছিল। কিন্তু সেই প্রচেষ্টা বাস্তবে কোনো স্থায়ী সমাধান আনতে পারেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে ৯ মে থেকে ১১ মে পর্যন্ত তিন দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর ছিল। সেই সময় উভয় পক্ষ তুলনামূলকভাবে বড় ধরনের হামলা থেকে বিরত থাকে। আন্তর্জাতিক মহল আশা করেছিল, এই যুদ্ধবিরতি হয়তো দীর্ঘমেয়াদি শান্তি আলোচনার পথ খুলে দেবে।

কিন্তু যুদ্ধবিরতির সময় শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে উভয় পক্ষই নিজেদের সামরিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চাইছে। ফলে সংঘাতের মাত্রা কমার বদলে আরও বাড়তে পারে।

বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে এই আশঙ্কায় যে, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন সংকট দেখা দিতে পারে। ইতোমধ্যে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠক শুরু করেছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলছে, যুদ্ধের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হচ্ছে সাধারণ মানুষ। প্রতিদিনই অসংখ্য পরিবার ঘরবাড়ি হারাচ্ছে, শিশুদের শিক্ষা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং মানুষ নিরাপত্তাহীন জীবনে বাধ্য হচ্ছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল আবারও উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থা দ্রুত যুদ্ধ বন্ধে আলোচনায় বসার অনুরোধ জানিয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক হামলার পর পরিস্থিতি যে আরও জটিল হয়ে উঠেছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। যুদ্ধবিরতির ক্ষণিক শান্তি শেষ হতেই ইউক্রেনের আকাশে আবারও যুদ্ধের আগুন জ্বলে উঠেছে। এখন বিশ্ব তাকিয়ে আছে, এই সংঘাত নতুন কোনো মোড় নেয় কি না।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!