প্রকাশিত: জুলাই ২৪, ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে ইরাকের মধ্যস্থতায় পাঠানো যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর স্থায়ী সমাধান ছাড়া সাময়িক কোনো সমঝোতায় তারা আগ্রহী নন। একই সঙ্গে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তাও দিয়েছে তেহরান। এদিকে সংঘাতের মধ্যে টানা ত্রয়োদশ রাতেও ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলার খবর পাওয়া গেছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি সম্প্রতি তেহরান সফর করে একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ইরানি নেতৃত্বের কাছে তুলে ধরেন। সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল উত্তেজনা কমিয়ে সংলাপের পরিবেশ তৈরি করা এবং সংঘাতের বিস্তার ঠেকানো।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতি তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বিদ্যমান বিরোধের স্থায়ী সমাধান ছাড়া কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে তারা মনে করছে। ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, এই বিষয়টি আঞ্চলিক নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত এবং আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অন্যদিকে ইরাক জানিয়েছে, তারা সংঘাত নিরসনে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। পাশাপাশি নিজেদের ভূখণ্ডকে কোনো দেশের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছে বাগদাদ।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ বা পণ্যবাহী নৌযানে হামলার ঘটনায় কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এ ধরনের হামলায় যে ক্ষয়ক্ষতি হবে, তার আর্থিক দায় যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইরানের সম্পদ থেকে আদায় করা হতে পারে।
এই বক্তব্যের জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ঘটনার অজুহাতে অন্য কোনো দেশের সম্পদ আটকে রাখা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জন্য বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত। তিনি সতর্ক করে বলেন, রাষ্ট্রগুলোর সম্পদ জব্দ করার এমন প্রবণতা বিশ্বব্যবস্থায় অস্থিরতা বাড়াবে এবং পারস্পরিক আস্থাকে দুর্বল করবে।
যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান এবং পাল্টাপাল্টি কঠোর বক্তব্যের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা।



