রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গাজায় হামলায় শিশুসহ নিহত ২

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৪, ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গাজায় হামলায় শিশুসহ নিহত ২

ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মধ্যেই গাজা উপত্যকায় আবারও ইসরায়েলি বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২৩ আগস্ট) গাজার জাওয়াইদা শহর ও নুসেইরাত শরণার্থীশিবির এলাকায় চালানো এসব হামলায় চার বছর বয়সী এক শিশুসহ অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও সাতজন।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, জাওয়াইদা শহরের একটি আবাসিক ভবন এবং এর কাছাকাছি নুসেইরাত শরণার্থীশিবিরকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়। হামলার পর ভবনের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত চার বছর বয়সী শিশু মোহাম্মদ আবদেল-সালাম তাহাসকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

হামলার ঘটনায় আহত অন্যদেরও হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। যুদ্ধবিরতির মধ্যে নতুন করে বিমান হামলার ঘটনায় গাজায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।

ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, হামলার ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এর আগে দেইর আল-বালাহ এলাকায় হামাসের এক জ্যেষ্ঠ নেতাকে হত্যার দাবিও করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। তবে এ বিষয়ে হামাসের পক্ষ থেকে ভিন্ন কোনো বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এদিকে গাজা থেকে ড্রোন, ঘুড়ি ও বেলুন পাঠানোর অভিযোগ তুলে হামলা আরও বাড়ানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে গাজায় সামরিক অভিযান আরও জোরদার করা হতে পারে। একই সঙ্গে বেসামরিক বাসিন্দাদের নির্দিষ্ট এলাকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়েছে।

তবে ইসরায়েলের এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে হামাস। সংগঠনটির নেতা বাসেম নাইমের দাবি, গাজার শিশুরা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে খেলতে গিয়ে ঘুড়ি ওড়াচ্ছে। এটিকে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে হামলা বাড়ানোর অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকার পরও গাজায় প্রাণহানি অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির সময়েও ইসরায়েলি হামলায় নতুন করে এক হাজার দুইশর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ফলে যুদ্ধবিরতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

অন্যদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরেও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এক ইসরায়েলিকে ছুরিকাঘাতের ঘটনার পর পরিচালিত অভিযানের সময় ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে ১৪ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি কিশোর নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

গাজা ও পশ্চিম তীরে ধারাবাহিক প্রাণহানির ঘটনায় বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখার প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!