প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২৬, ১২:০৬ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখা এবং ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সম্ভাব্য এই বৈঠক নিয়ে দুই দেশের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা গেছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা অনুষ্ঠানের ইঙ্গিত দিলেও অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে এ ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক কৌশলগত বৈঠকের পরিকল্পনা তাদের নেই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের অনুরোধেই এই বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং দোহায় উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। যদিও তিনি আলোচনায় অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধি কিংবা আলোচ্যসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, দেশটির বিশেষ দূত এবং প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টারা দোহায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে পারেন। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখা, ভবিষ্যৎ সমন্বয় এবং উত্তেজনা পুনরায় বৃদ্ধি ঠেকানোর বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। একই সঙ্গে দুই দেশের কারিগরি পর্যায়ের প্রতিনিধিদের নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে ইরানের অবস্থান কিছুটা ভিন্ন। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এ সপ্তাহে কোনো কারিগরি বা আনুষ্ঠানিক আলোচনা নির্ধারিত নেই। তার মতে, এ ধরনের খবর বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এদিকে সাম্প্রতিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা হরমুজ প্রণালি নিয়েও নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। যুদ্ধবিরতির পর প্রথমবারের মতো ওমানের সঙ্গে বৈঠক করেছে ইরান। বৈঠকে প্রণালির নিরাপত্তা, ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা এবং নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে বলে জানা গেছে।
হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়েই পরিবহন করা হয়। ফলে এ অঞ্চলে সামান্য অস্থিরতাও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
সম্প্রতি সামরিক উত্তেজনার কারণে প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলও কমে গেছে। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে অনেক জাহাজ বিকল্প সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এবং বেশ কিছু জাহাজ নিজেদের অবস্থান প্রকাশও বন্ধ রেখেছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের তথ্য থেকে জানা গেছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণ নিয়েও নতুন মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। ইউরোপের একটি দেশের সঙ্গে ওমান যৌথভাবে এ কার্যক্রম পরিচালনার আগ্রহ প্রকাশ করলেও ইরান জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী এই দায়িত্ব তাদের নিজস্ব কর্তৃপক্ষই পালন করবে। অন্য কোনো দেশের অংশগ্রহণকে তারা সমর্থন করছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ পরিচালনা নিয়ে এখনো গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য বিদ্যমান। ফলে দোহার সম্ভাব্য আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।



