প্রকাশিত: মে ১৭, ২০২৬, ১২:১০ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে আবারও নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত মাসে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এবার ইরানকে ঘিরে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের যৌথ প্রস্তুতি শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল—এমনই তথ্য উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রে। বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক ও সামরিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
মার্কিন ও আঞ্চলিক একাধিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে, সম্ভাব্য এই অভিযানের পরিকল্পনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং আগামী সপ্তাহের শুরুতেই এর প্রথম ধাপ শুরু হতে পারে। যদিও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি, তবে প্রস্তুতির গতি বেশ তীব্র বলে দাবি করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আলোচনায় থাকা একটি বিকল্প পরিকল্পনায় ইরানের ভূগর্ভে বা ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা পারমাণবিক উপাদান এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধারের জন্য বিশেষ বাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ ধরনের অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও জটিল বলে সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
তাদের মতে, এমন অভিযানে শুধু বিশেষ বাহিনীই নয়, ব্যাপক সংখ্যক সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন হতে পারে। পাশাপাশি ইরানি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষের আশঙ্কাও প্রবল। ফলে পরিস্থিতি দ্রুতই পূর্ণাঙ্গ সামরিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্য একটি সম্ভাব্য পরিকল্পনায় পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ একটি দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে। এই অঞ্চলটি তেল রপ্তানি ও বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও অবকাঠামোগত লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলার বিষয়টিও বিবেচনায় আছে।
সামরিক সূত্রগুলো বলছে, এই যৌথ পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে দুর্বল করা এবং দেশটির পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে নিয়ন্ত্রণে আনা। পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে অভ্যন্তরীণ চাপ তৈরি করার কৌশলও এতে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
এর আগে দীর্ঘ সংঘাতের সময় দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ব্যাপকভাবে অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে একাধিক মধ্যস্থতাকারী দেশের প্রচেষ্টায় একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
তবে সেই যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হয়নি। নতুন করে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় এখন পরিস্থিতি আবারও অনিশ্চয়তার দিকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা চললেও এখনো কোনো চূড়ান্ত অগ্রগতি হয়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়ে রয়েছে। যেকোনো ভুল সিদ্ধান্ত পুরো অঞ্চলে নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। ফলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর জন্য এটি একটি বড় কূটনৈতিক ও সামরিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা চললেও নতুন সামরিক প্রস্তুতির খবর পরিস্থিতিকে আবারও জটিল করে তুলছে। এখন সবার নজর রয়েছে পরবর্তী কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত ও সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের দিকে।



