রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জরুরি অবস্থা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ১৭, ২০২৬, ০৩:২১ পিএম

জরুরি অবস্থা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

ফাইল ছবি

আফ্রিকার কঙ্গো গণপ্রজাতন্ত্রে আবারও ইবোলা ভাইরাসের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে নতুন করে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি সতর্কতা ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং কয়েকশো মানুষ সন্দেহভাজন সংক্রমণের তালিকায় রয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আক্রান্ত এলাকা মূলত বুনিয়া শহর এবং আশপাশের স্বর্ণখনি অঞ্চলগুলোতে বেশি বিস্তৃত হয়েছে।

সংস্থাটির মহাপরিচালক জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হলেও এটি এখনো বৈশ্বিক মহামারির পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তবে রোগটির বিস্তার এবং প্রকৃত সংক্রমণের পরিসর নিয়ে এখনো বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এবারের প্রাদুর্ভাবটি বিশেষ ধরনের ভাইরাসের কারণে হচ্ছে, যার বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর কোনো অনুমোদিত চিকিৎসা বা টিকা নেই। ইতিমধ্যে পরীক্ষাগারে একাধিক নমুনায় ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কঙ্গোর সীমান্তবর্তী প্রতিবেশী দেশ উগান্ডাতেও সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। সীমান্ত এলাকায় মানুষের চলাচল, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ভ্রমণ অব্যাহত থাকায় ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আরও বাড়ছে। ইতিমধ্যে উগান্ডায় একজন রোগীর মৃত্যুর পর তার শরীরে ইবোলা শনাক্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কঙ্গো এবং উগান্ডা উভয় দেশকেই জরুরি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত রোগী শনাক্তকরণ, আলাদা করে চিকিৎসা এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সংস্থাটির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আক্রান্ত ব্যক্তিদের আলাদা রেখে চিকিৎসা দিতে হবে এবং পরপর দুটি পরীক্ষায় নেগেটিভ ফল না আসা পর্যন্ত তাদের পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী দেশগুলোতে নজরদারি ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্পষ্ট জানিয়েছে, এখনই সীমান্ত বন্ধ বা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রয়োজন নেই। এ ধরনের পদক্ষেপ বৈজ্ঞানিকভাবে প্রয়োজনীয় নয় এবং এটি আতঙ্ক বাড়াতে পারে।

ইবোলা ভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় ১৯৭০-এর দশকে কঙ্গো অঞ্চলে। ধারণা করা হয়, বন্যপ্রাণী বিশেষ করে বাদুড়ের মাধ্যমে এই ভাইরাস মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এটি অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ, যা শরীরের তরল পদার্থের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

প্রাথমিক অবস্থায় জ্বর, মাথাব্যথা, দুর্বলতা ও শরীর ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পরবর্তীতে বমি, তীব্র ডায়রিয়া, ত্বকে ফুসকুড়ি এবং গুরুতর ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ পর্যন্ত হতে পারে। রোগটি দ্রুত অঙ্গ বিকল করে দিতে সক্ষম, যা মৃত্যুঝুঁকি বাড়ায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ইবোলা আক্রান্তদের মধ্যে গড় মৃত্যুহার প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি, যা এটিকে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ ভাইরাসে পরিণত করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, সচেতনতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া এই প্রাদুর্ভাব আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!