রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিশ্বজুড়ে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, সতর্ক করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ৪, ২০২৬, ০৯:০৪ এএম

বিশ্বজুড়ে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, সতর্ক করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

প্রতীকী ছবি

বিশ্বজুড়ে ডেঙ্গুর সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটির সর্বশেষ মূল্যায়নে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরে ডেঙ্গুর বিস্তার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং এটি এখন শুধু গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। জলবায়ু পরিবর্তন, দ্রুত নগরায়ণ এবং মশার বিস্তারের কারণে নতুন নতুন এলাকাতেও রোগটি ছড়িয়ে পড়ছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত বছরে বিশ্বব্যাপী ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। ওই সময়ে প্রায় এক কোটি ৪৬ লাখ মানুষের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয় এবং অন্তত ১২ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বিশ্বের ৯৭টি দেশ থেকে ৪০ লাখেরও বেশি আক্রান্ত এবং তিন হাজারের বেশি মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ রোগী যথাযথ পরিচর্যা পেলে এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে রোগটি জটিল আকার ধারণ করে প্রাণঘাতী হতে পারে। ডেঙ্গুর সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে তীব্র জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ও সন্ধিস্থলে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং ত্বকে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া। অনেকের ক্ষেত্রে সুস্থ হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় শারীরিক দুর্বলতা অনুভূত হতে পারে।

চিকিৎসকেরা সতর্ক করে বলেছেন, তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত, রক্তবমি কিংবা অতিরিক্ত দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া প্রয়োজন। এসব লক্ষণ ডেঙ্গুর জটিল অবস্থার ইঙ্গিত হতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। আক্রান্ত ব্যক্তিকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, প্রচুর তরল পানীয় এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জ্বর কমানোর ওষুধ গ্রহণ করতে হবে। রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে—এমন ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গ্রহণ করা উচিত নয়।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এডিস মশার বিস্তার রোধ করা এবং মশার কামড় থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা। ঘরবাড়ি ও আশপাশে কোথাও যেন পরিষ্কার পানি জমে না থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। পাশাপাশি শরীর ঢেকে রাখে এমন পোশাক পরা, দিনের বেলাতেও মশারি ব্যবহার করা এবং দরজা-জানালায় জাল লাগানোর মতো ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ব্যক্তিগত সচেতনতা নয়, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগই সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!