রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নতুন করে ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি ভাইরাস নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ১২, ২০২৬, ০৯:৪৭ এএম

নতুন করে ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি ভাইরাস নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ

প্রতীকী ছবি

বিশ্বজুড়ে নতুন এক ভাইরাস নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। ইনফ্লুয়েঞ্জা গোত্রের নতুন ধরন ‘ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি’ ঘিরে সম্ভাব্য বৈশ্বিক স্বাস্থ্যঝুঁকির সতর্কতা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সাধারণ ফ্লু বা মৌসুমি সর্দি-জ্বরের চেয়ে অনেক বেশি সংক্রামক এই ভাইরাস দ্রুত রূপ পরিবর্তন করতে সক্ষম বলে গবেষণায় জানা গেছে। ফলে এটি ভবিষ্যতে বড় ধরনের স্বাস্থ্য সংকট তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগে বিশ্ব ইনফ্লুয়েঞ্জা এ ও ইনফ্লুয়েঞ্জা বি ভাইরাস সম্পর্কে পরিচিত থাকলেও ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি নতুন এক চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে। এর পাশাপাশি ইনফ্লুয়েঞ্জার আরেকটি পরিবর্তিত রূপ নিয়েও গবেষকরা পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছেন, তবে মূল উদ্বেগের কেন্দ্র এখন এই নতুন ধরনের ভাইরাস।

প্রাথমিকভাবে ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি কেবল গবাদি পশুর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, এটি এখন প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে প্রবেশের সক্ষমতা অর্জন করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কয়েকটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, খামার শ্রমিকদের শরীরে এই ভাইরাসের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা মানবদেহে সংক্রমণের প্রথম ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হচ্ছে।

এই ভাইরাসের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এটি উচ্চ তাপমাত্রা ও প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকতে পারে। ফলে বিভিন্ন আবহাওয়ায় এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভাইরাসটির অভিযোজন ক্ষমতা অনেক বেশি হওয়ায় এটি সময়ের সঙ্গে আরও শক্তিশালী রূপ নিতে পারে।

গবেষণায় আরও জানা গেছে, মানবদেহের একটি নির্দিষ্ট প্রোটিন ভাইরাসটির সংক্রমণকে জটিল করে তুলতে পারে। এই প্রোটিন রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে শরীরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যেমন লিভার ও ফুসফুসের কোষকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। একই সঙ্গে এটি শরীরের শক্তি উৎপাদন ব্যবস্থার ওপরও আঘাত হানে, যার ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে।

প্রাথমিক পর্যায়ে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে সাধারণ জ্বর, কাশি, শরীর ব্যথা ও দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। ফলে অনেকেই এটিকে সাধারণ ফ্লু ভেবে অবহেলা করতে পারেন। তবে ভেতরে ভেতরে ভাইরাসটি দ্রুত বিস্তার ঘটাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকেরা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এখনো পর্যন্ত এই ভাইরাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে না পড়লেও এর ঝুঁকি একেবারেই উপেক্ষা করা যাবে না। বিশেষ করে প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া যাওয়ায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত প্রতিরোধ ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এই ভাইরাস বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তাই আগেভাগেই গবেষণা, নজরদারি ও সম্ভাব্য প্রতিষেধক উন্নয়নের কাজ জোরদার করা হচ্ছে।

এদিকে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, অসুস্থ পশুর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং কোনো ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সব মিলিয়ে ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি এখনো পূর্ণাঙ্গ মহামারি না হলেও এর সম্ভাব্য বিস্তার বিশ্ব স্বাস্থ্য মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!