প্রকাশিত: আগস্ট ৮, ২০২৬, ১২:৩১ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় প্রথমবারের মতো একটি কার্যকর কৃত্রিম ভাইরাস তৈরিতে সফল হয়েছেন। গবেষকদের দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সম্পূর্ণ একটি ভাইরাসের জিনগত নকশা তৈরি এবং সেই নকশার ভিত্তিতে গবেষণাগারে কার্যকর ভাইরাস তৈরি করার ঘটনা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। তবে এই সাফল্যের পাশাপাশি জৈবনিরাপত্তা ও নৈতিকতা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের পরিচালিত এই গবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দুটি বিশেষ মডেল ব্যবহার করা হয়েছে। বিপুল পরিমাণ জীবের জিনগত তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব মডেল সম্ভাব্য নতুন জিনগত নকশা তৈরি করে। গবেষকেরা তৈরি হওয়া হাজার হাজার নকশার মধ্য থেকে ৩০২টি নকশা বাছাই করে পরীক্ষাগারে যাচাই করেন। এর মধ্যে ১৬টি ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
পরীক্ষায় তৈরি ভাইরাসগুলো কোষের ভেতরে বংশবিস্তার করতে সক্ষম হওয়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট ধরনের ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে চিকিৎসাবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিকে প্রতিরোধী জীবাণু ধ্বংস, নতুন ওষুধ উদ্ভাবন, জিনগত রোগের চিকিৎসা এবং ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
তবে প্রযুক্তিটির সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগও রয়েছে। মানুষের জন্য ক্ষতিকর ভাইরাস তৈরিতে একই ধরনের প্রযুক্তি ভবিষ্যতে ব্যবহার করা হলে তা গুরুতর জৈবনিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকেরা।
জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা বিশেষভাবে সতর্ক করে বলেছেন, মানুষ বা জটিল প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর জীবাণু তৈরির সম্ভাবনা সৃষ্টি করে এমন প্রযুক্তির ব্যবহার কঠোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের আওতায় রাখা প্রয়োজন।
স্ট্যানফোর্ডের গবেষকেরা অবশ্য জানিয়েছেন, তাদের পরীক্ষায় মানুষের জন্য ক্ষতিকর কোনো ভাইরাস তৈরি করা হয়নি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেও সে ধরনের ক্ষতিকর তথ্য সরবরাহ করা হয়নি। তাদের মতে, নিরাপত্তার বিষয়টি গবেষণার প্রতিটি পর্যায়েই গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়েছে।
বিজ্ঞানীদের আশা, যথাযথ নিরাপত্তা ও নৈতিক কাঠামোর মধ্যে এই প্রযুক্তির ব্যবহার চিকিৎসাবিজ্ঞানে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে। একই সঙ্গে এর অপব্যবহার ঠেকাতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কঠোর নীতিমালা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।



