রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য আসছে বড় দুঃসংবাদ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২৬, ০১:০৭ পিএম

কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য আসছে বড় দুঃসংবাদ

প্রতীকী ছবি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনলাইনে ছবি, শব্দ ও ভিডিও তৈরির প্রবণতাও দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এর সুযোগ নিয়ে নিম্নমানের, পুনরাবৃত্তিমূলক এবং বিভ্রান্তিকর ভিডিওর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে থাকায় ভিডিও প্রকাশের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম নতুন নীতিমালা কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে। নতুন এ সিদ্ধান্তের ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি কিছু নির্দিষ্ট ধরনের ভিডিও আর আয়ভিত্তিক কর্মসূচির সুবিধা পাবে না।

নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, দর্শকদের জন্য মানসম্মত, মৌলিক ও তথ্যনির্ভর ভিডিওকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। অন্যদিকে একই ধরনের বিষয়বস্তু বারবার প্রকাশ, বিভ্রান্তি ছড়ানো কিংবা কৃত্রিমভাবে তৈরি উপস্থাপনার মাধ্যমে দর্শকদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট ভিডিও আয় করার সুযোগ হারাতে পারে।

নীতিমালা অনুযায়ী, একই ধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ভিডিও ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা হলে তা অপ্রামাণ্য বিষয়বস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে। পাশাপাশি এমন ভিডিও, যার উদ্দেশ্য দর্শকদের আবেগকে বিভ্রান্ত করা, ভুল ধারণা সৃষ্টি করা বা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করা, সেগুলোর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশেষ করে স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, অর্থনীতি কিংবা আইনসংক্রান্ত সংবেদনশীল বিষয়ে মানুষের মতো দেখতে বা কথা বলতে সক্ষম কৃত্রিম চরিত্র ব্যবহার করে তৈরি ভিডিওকে অতিরিক্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হবে। কারণ এ ধরনের ভিডিও ভুল তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় বিপুল পরিমাণ নিম্নমানের ভিডিও তৈরি হচ্ছে। এতে দর্শকের আস্থা কমে যাওয়ার পাশাপাশি বিজ্ঞাপনদাতাদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাই এখন থেকে এমন ভিডিওকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, যেগুলো মৌলিক চিন্তাধারা, নির্ভুল তথ্য, সৃজনশীল উপস্থাপনা এবং বাস্তব মূল্য বহন করে।

তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারকে পুরোপুরি নিরুৎসাহিত করা হয়নি। বরং স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, যেসব ভিডিওতে নতুনত্ব, তথ্যের সত্যতা এবং মানসম্পন্ন উপস্থাপনা থাকবে, সেগুলো আগের মতোই আয়ভিত্তিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রাখবে। অর্থাৎ প্রযুক্তির ব্যবহার নয়, বরং তার দায়িত্বশীল ও সৃজনশীল প্রয়োগই হবে মূল্যায়নের প্রধান বিষয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে ভিডিও নির্মাতাদের এখন আরও সতর্ক হয়ে কাজ করতে হবে। শুধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর নির্ভর না করে নিজস্ব গবেষণা, বিশ্লেষণ ও মৌলিক উপস্থাপনার ওপর জোর দিতে হবে। একই সঙ্গে ভুল তথ্য, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা এবং পুনরাবৃত্তিমূলক বিষয়বস্তু থেকে দূরে থাকলে নির্মাতারা ভবিষ্যতেও আয়ভিত্তিক সুবিধা ধরে রাখতে পারবেন।

নতুন এ নীতিমালাকে অনলাইনভিত্তিক ভিডিও জগতে মানোন্নয়ন ও বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সৃজনশীল ও দায়িত্বশীল নির্মাতারা যেমন উৎসাহিত হবেন, তেমনি দর্শকরাও আরও নির্ভরযোগ্য ও মানসম্পন্ন বিষয়বস্তু উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!