রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শিশুদের আসক্তির অভিযোগে মেটার বিরুদ্ধে বিচার শুরু

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ১৯, ২০২৬, ১১:২৬ এএম

শিশুদের আসক্তির অভিযোগে মেটার বিরুদ্ধে বিচার শুরু

ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রে শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে আসক্ত করে তোলার অভিযোগে মেটার বিরুদ্ধে বড় ধরনের আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার অকল্যান্ডে মঙ্গলবার এ মামলার শুনানি শুরু হয়। আগামী ছয় সপ্তাহ ধরে বিচারক ও জুরির সামনে দুই পক্ষের আইনজীবীরা বিভিন্ন নথি, গবেষণা ও অন্যান্য প্রমাণ উপস্থাপন করবেন।

মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ২৯টি অঙ্গরাজ্য মেটার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে। তাদের দাবি, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে—এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি আগে থেকেই অবগত ছিল। এরপরও তরুণ ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় ধরে এসব মাধ্যমে সক্রিয় রাখতে বিভিন্ন ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ অঙ্গরাজ্যগুলোর।

মঙ্গলবার শুনানির শুরুতেই অভিযোগ ও পাল্টা যুক্তি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বিতর্ক হয়। অঙ্গরাজ্যগুলোর আইনজীবীরা দাবি করেন, ১১ ও ১২ বছর বয়সী বিপুলসংখ্যক শিশু ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করলেও তাদের ঠেকাতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি মেটা। তবে প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবীরা এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ওই বয়সী ব্যবহারকারীর সংখ্যা অঙ্গরাজ্যগুলোর দাবির তুলনায় অনেক কম।

মেটার পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি একটি স্বীকৃত চিকিৎসাবিষয়ক ধারণা নয় এবং এ ধরনের ব্যবহারের প্রভাব সবার ক্ষেত্রে একই রকম নয়। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের মাধ্যমে অনেক কিশোর ইতিবাচক অভিজ্ঞতাও পেয়েছে।

অন্যদিকে অঙ্গরাজ্যগুলোর আইনজীবীরা মেটার অভ্যন্তরীণ গবেষণা ও নথিকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাদের দাবি, প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব গবেষণাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের পর কিছু কিশোরের মানসিক অবস্থার অবনতি হওয়ার তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। এমনকি ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় ধরে মাধ্যমে রাখার কিছু ব্যবস্থা তাদের সুস্থতা ও দৈনন্দিন গুরুত্বপূর্ণ কাজে মনোযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে—এমন তথ্যও অভ্যন্তরীণ নথিতে ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অঙ্গরাজ্যগুলোর অভিযোগ আরও গুরুতর। তাদের দাবি, শিশুদের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার আইন মেটা একাধিকবার লঙ্ঘন করেছে। এ কারণে তারা বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার দাবি জানিয়েছে। এর মধ্যে ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়ার সংখ্যা প্রদর্শন সীমিত করা এবং একের পর এক বিষয়বস্তু দেখানোর ব্যবস্থা পরিবর্তনের মতো প্রস্তাব রয়েছে।

মেটার পক্ষ থেকে অবশ্য দাবি করা হয়েছে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। পাশাপাশি বয়স যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার আইনি সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও আদালতে তুলে ধরা হয়েছে।

ছয় সপ্তাহের এই বিচার শেষে জুরি অঙ্গরাজ্যগুলোর অভিযোগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে। রায়ে মেটার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রতিষ্ঠানটির ওপর বড় ধরনের আর্থিক ও নীতিগত চাপ তৈরি হতে পারে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!