রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

তরুণদের জন্য বদলে যেতে পারে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ১৭, ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম

তরুণদের জন্য বদলে যেতে পারে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম

ফাইল ছবি

তরুণ ও কিশোর ব্যবহারকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব তৈরির অভিযোগে বড় ধরনের আইনি চাপে পড়েছে মেটা। যুক্তরাষ্ট্রের ৩০টি অঙ্গরাজ্যের করা মামলার বিচার শুরু হলে প্রতিষ্ঠানটির জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি পরীক্ষায় পরিণত হতে পারে। মামলায় মেটা পরাজিত হলে দেশটিতে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের বেশ কিছু প্রচলিত সুবিধা এবং ব্যবহারপদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হতে পারে।

২০২৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়া, নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের ৩০টি অঙ্গরাজ্য মেটার বিরুদ্ধে মামলাটি করে। অভিযোগে বলা হয়েছে, শিশু ও কিশোরদের সুরক্ষা এবং গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান বিভিন্ন আইন যথাযথভাবে অনুসরণ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে এমন কিছু ব্যবস্থা চালু রাখার অভিযোগও রয়েছে, যেগুলো তরুণদের দীর্ঘ সময় ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় রাখতে উৎসাহিত করে।

মামলাকারী অঙ্গরাজ্যগুলো বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধায় পরিবর্তন চেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রকাশ্যে পছন্দের সংখ্যা দেখানো বন্ধ করা, অনবরত নিচের দিকে সরিয়ে নতুন নতুন বিষয় দেখার ব্যবস্থা সীমিত করা, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিও চালু হওয়া বন্ধ করা এবং কিশোর ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে অভিভাবকের পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালু করা।

এ ছাড়া ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় ধরে প্ল্যাটফর্মে আটকে রাখার উদ্দেশ্যে তৈরি সুপারিশব্যবস্থায় পরিবর্তন, তরুণদের জন্য কিছু চেহারা পরিবর্তনকারী ছবি-প্রভাব সরিয়ে দেওয়া এবং একাধিক ব্যক্তিগত হিসাব খোলার সুযোগ সীমিত করার দাবিও রয়েছে।

অঙ্গরাজ্যগুলোর অভিযোগ, ঘন ঘন বার্তা পাঠানো, স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন বিষয় প্রদর্শন এবং জনপ্রিয়তার মাপকাঠি হিসেবে পছন্দের সংখ্যা দেখানোর মতো ব্যবস্থাগুলো তরুণদের ওপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে অন্যের সঙ্গে নিজের জীবন, চেহারা বা জনপ্রিয়তার তুলনা করার প্রবণতা বাড়িয়ে হতাশা, একাকিত্ব ও আত্মমূল্যায়নজনিত সমস্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।

মেটা অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তরুণ ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আসছে।

এর আগে নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যেও মেটার বিরুদ্ধে করা একটি মামলায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা এবং তরুণ ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় বিভিন্ন পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়। সেখানে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে পছন্দের সংখ্যা প্রদর্শন সীমিত করা, অশালীন ছবি আদান-প্রদান ঠেকানো এবং নির্দিষ্ট সময়ে বার্তা পাঠানোর ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

নতুন মামলাটি আলাদাভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ এতে যুক্ত থাকা ৩০টি অঙ্গরাজ্যের মোট জনসংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। ফলে মেটার বিরুদ্ধে রায় গেলে এর প্রভাব শুধু একটি অঞ্চলে সীমাবদ্ধ না থেকে দেশটির বিশালসংখ্যক তরুণ ব্যবহারকারীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ধরন বদলে দিতে পারে।

মামলায় বিপুল পরিমাণ নথি আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। এসব নথির মধ্যে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব গবেষণার তথ্যও রয়েছে বলে জানা গেছে। সেখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তার বিভিন্ন মাপকাঠি তরুণদের মধ্যে অন্যের সঙ্গে নিজের তুলনা করার প্রবণতা বাড়াতে পারে—এমন বিষয় উঠে এসেছে বলে মামলার পক্ষের দাবি।

ফলে এবারের বিচার শুধু আর্থিক ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং যুক্তরাষ্ট্রে তরুণদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কীভাবে পরিচালিত হবে, তার ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। রায় মেটার বিরুদ্ধে গেলে দীর্ঘদিনের প্রচলিত বিভিন্ন সুবিধা, সুপারিশব্যবস্থা এবং ব্যবহারকারীদের সঙ্গে প্ল্যাটফর্মের যোগাযোগের ধরন পুনর্বিন্যাস করতে হতে পারে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!