রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ফেসবুকে মাদ্রাসা নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট, স্কুলশিক্ষক আটক

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম

ফেসবুকে মাদ্রাসা নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট, স্কুলশিক্ষক আটক

ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীর চারঘাটে ইসলাম ধর্ম ও মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর বক্তব্যসংবলিত পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে নারায়ণ চন্দ্র নামের এক স্কুলশিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই পোস্টের মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে। তবে শিক্ষককে আটকের সময় পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চারঘাট উপজেলার ভাটপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে নারায়ণ চন্দ্রকে আটক করা হয়। তাঁর বয়স প্রায় ৫০ বছর। তিনি ওই বিদ্যালয়ের ধর্মবিষয়ক শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর ধরে সেখানে শিক্ষকতা করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নারায়ণ চন্দ্রের ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাবে আগে বিভিন্ন সময় ইসলাম ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য প্রকাশের অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার রাতে ইসলাম ধর্ম ও মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্যসংবলিত একটি ছবিযুক্ত লেখা প্রকাশ করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর বুধবার সকালে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বিদ্যালয়ে গিয়ে ওই শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলতে চান।

একপর্যায়ে শিক্ষক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কক্ষে অবস্থান করলে স্থানীয় বাসিন্দা ও কয়েকজন শিক্ষার্থী সেখানে জড়ো হন। পরে তাঁকে ওই কক্ষের মধ্যে আটকে রাখা হয় বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ বিদ্যালয়ে গিয়ে নারায়ণ চন্দ্রকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে থানায় যায়।

স্থানীয়দের দাবি, কথিত ছবিযুক্ত লেখাটিতে মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করা হয়েছিল। সেখানে অবমাননাকর বক্তব্য রয়েছে বলেও তাঁরা অভিযোগ করেন। তবে পুলিশ ওই লেখার সত্যতা ও প্রকৃত বিষয়বস্তু যাচাই করছে।

এদিকে বুধবার নারায়ণ চন্দ্রের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাবে গিয়ে কথিত সেই ছবিযুক্ত লেখাটি দেখা যায়নি। ওই দিন সকালে তিনি নিজের একটি ছবি প্রকাশ করেন। সেখানে জ্ঞান, সত্য ও ধর্ম নিয়ে কিছু বক্তব্যও ছিল। এর আগে শিশুদের খেলার একটি ভিডিও এবং জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছাসংবলিত একটি লেখা প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

ভাটপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাবিয়া খাতুন জানান, নারায়ণ চন্দ্র এর আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন লেখা প্রকাশ করেছিলেন। সেগুলো নিয়ে স্থানীয়দের আপত্তির পর তাঁকে এ ধরনের বিতর্কিত লেখা প্রকাশ না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। পরে আবারও একই ধরনের অভিযোগ ওঠায় স্থানীয়রা বিদ্যালয়ে এসে তাঁকে অবরুদ্ধ করেন। এরপর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দেয়।

তবে কথিত পোস্টের বিষয়ে নারায়ণ চন্দ্রের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

চারঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান জানান, স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ওই শিক্ষককে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ যাচাই করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা হয়নি। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা ও প্রাসঙ্গিকতা বিবেচনা করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বক্তব্যে স্পষ্ট, বিষয়টি এখনো অভিযোগ ও তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে। তাই কথিত পোস্টের সত্যতা এবং এর মাধ্যমে আইনগতভাবে কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!