প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬, ০৯:৪৮ এএম
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর বাজারে পথ হারিয়ে কান্নারত দুই স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যদের কাছে নিরাপদে পৌঁছে দিয়েছে ট্রাফিক পুলিশ। সোমবার বিকেলে বানেশ্বর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের দ্রুত উদ্যোগে অল্প সময়ের মধ্যেই দুই শিশুর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়।
জানা গেছে, সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বানেশ্বর বাজার এলাকায় স্কুলের পোশাক পরা দুই শিশুকে কান্নারত অবস্থায় দেখতে পান দায়িত্ব পালনরত ট্রাফিক সার্জেন্ট টিপু। জনবহুল বাজারের মধ্যে দুই শিশুকে একা অবস্থায় দেখে তিনি তাদের কাছে গিয়ে কথা বলেন। এ সময় শিশুরা কোথা থেকে এসেছে বা কীভাবে বাড়িতে ফিরবে, সে বিষয়ে স্পষ্টভাবে কিছু বলতে পারছিল না।
পরে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ট্রাফিক সার্জেন্ট তাদের বানেশ্বর ট্রাফিক পুলিশ বক্সে নিয়ে যান। সেখানে ট্রাফিক পরিদর্শক মোতালেবুর রহমানের কাছে দুই শিশুকে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ সদস্যরা তাদের শান্ত করার পাশাপাশি পরিচয় ও পরিবারের বিষয়ে জানতে চেষ্টা করেন।
পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুই শিশুই পারিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। তাদের বাড়ি রাজশাহীর পবা উপজেলার তরফ পারিলা গ্রামে। বিদ্যালয়ে টিফিনের সময় তারা বাইরে বের হয়েছিল। পরে একটি ভ্যানে করে বানেশ্বর বাজার এলাকায় চলে আসে। কিন্তু বাজারে আসার পর কোন পথে বাড়ি ফিরতে হবে, তা তারা বুঝতে পারেনি। একপর্যায়ে পরিচিত কাউকে না পেয়ে তারা কান্না শুরু করে।
পুলিশ সদস্যরা শিশু দুটির কাছ থেকে পরিবারের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন। একপর্যায়ে তাদের একজন বাবার মুঠোফোন নম্বর বলতে সক্ষম হয়। সেই নম্বরে যোগাযোগ করে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়। পরে স্বজনরা বানেশ্বর ট্রাফিক পুলিশ বক্সে এসে পৌঁছালে প্রয়োজনীয় পরিচয় নিশ্চিত করে দুই শিশুকে তাদের পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
ট্রাফিক পরিদর্শক মোতালেবুর রহমান বলেন, ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে দুই শিশুকে কান্নাকাটি করতে দেখে দায়িত্বপ্রাপ্ত সার্জেন্ট তাদের সেখানে নিয়ে আসেন। পরে তাদের সঙ্গে কথা বলে একজনের কাছ থেকে বাবার ফোন নম্বর পাওয়া যায়। ওই নম্বরে যোগাযোগ করে পরিবারের সদস্যদের ডেকে আনা হয় এবং পরে দুই শিশুকে নিরাপদে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
শিশু দুটিকে ফিরে পেয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। অল্প বয়সী দুই শিক্ষার্থী কীভাবে বাড়ি থেকে এতটা দূরে চলে গেল, তা নিয়েও তাদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।
এদিকে, পথ হারানো শিশু দুটির প্রতি দ্রুত সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, ব্যস্ত বাজারে অপরিচিত ও অসহায় অবস্থায় থাকা শিশুদের দ্রুত শনাক্ত করে নিরাপদ স্থানে নেওয়া এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা দায়িত্বশীলতার পরিচয়।
শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মনে করছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে বিদ্যালয় থেকে বাইরে যাওয়ার সময় শিশুদের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগের নম্বর রাখা এবং প্রয়োজনে তা মুখস্থ করিয়ে রাখলে বিপদের সময় দ্রুত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সহজ হয়।
এই ঘটনায় ট্রাফিক পুলিশের তাৎক্ষণিক উদ্যোগ শুধু দুই শিশুকে পরিবারের কাছে ফিরিয়েই দেয়নি, বরং বিপদে পড়া শিশুদের নিরাপত্তায় দায়িত্বশীল আচরণের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্তও তৈরি করেছে।



