রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

একসঙ্গে মা-ছেলের এসএসসি পরীক্ষা দুজনই পেলেন জিপিএ-৫

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ১০, ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম

একসঙ্গে মা-ছেলের এসএসসি পরীক্ষা  দুজনই পেলেন জিপিএ-৫

সংগৃহীত

রাজশাহীতে অনুপ্রেরণার এক অনন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন মা ও ছেলে। একই সময়ে মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দুজনেই জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। দীর্ঘ ১৯ বছর পড়াশোনা থেকে দূরে থাকার পর আবারও বই-খাতা হাতে তুলে নিয়ে মায়ের এমন সাফল্য পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আনন্দের সৃষ্টি করেছে।

সাদিয়া বেগমের পড়াশোনার পথ থেমে গিয়েছিল বিয়ের পর। সংসারের দায়িত্ব, সন্তান লালন-পালন এবং পারিবারিক নানা ব্যস্ততায় আর নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে শিক্ষাজীবন শেষ করার আকাঙ্ক্ষা তার মনে থেকেই যায়। শেষ পর্যন্ত স্বামীর উৎসাহ এবং নিজের প্রবল ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে তিনি নতুন করে পড়াশোনা শুরু করেন।

এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষায় ছেলের সঙ্গে একই সময়ে পরীক্ষার্থী হন সাদিয়া। ছেলে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবং মা সিটি কারিগরি ও ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, দুজনের অর্জনই সর্বোচ্চ—দুজনেই পেয়েছেন জিপিএ-৫।

সাদিয়া জানান, সংসারের কাজের পাশাপাশি ছেলের পড়াশোনার দেখভাল করতে হয়েছে। একই সঙ্গে নিজের পড়াশোনার প্রস্তুতিও চালিয়ে গেছেন। কখনো সংসারের দায়িত্ব, কখনো সন্তানের পড়াশোনা—সবকিছু সামলে নিজের জন্য সময় বের করা সহজ ছিল না। তবু লক্ষ্য থেকে সরে যাননি তিনি।

তার এই সাফল্যে সবচেয়ে বেশি খুশি স্বামী তোফাজ্জল হোসেন। তিনি স্ত্রীকে পড়াশোনায় ফিরতে উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও করেছেন। তার মতে, বয়স বা পারিবারিক দায়িত্ব কখনোই শিক্ষার পথে স্থায়ী বাধা হতে পারে না। আগ্রহ ও পরিবারের সহযোগিতা থাকলে যেকোনো সময় নতুন করে শিক্ষাজীবন শুরু করা সম্ভব।

মা ও ছেলের একই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এবং দুজনেরই জিপিএ-৫ পাওয়ায় পরিবারের আনন্দ যেন দ্বিগুণ হয়েছে। স্বজনদের পাশাপাশি পরিচিতজনরাও তাদের অভিনন্দন জানাচ্ছেন।

দীর্ঘ বিরতির পর সাদিয়ার শিক্ষাজীবনে ফিরে আসার গল্প বিশেষভাবে অনুপ্রেরণাদায়ক। তার এই অর্জন প্রমাণ করে, পড়াশোনার স্বপ্ন পূরণে বয়স কিংবা সংসারের ব্যস্ততা চূড়ান্ত বাধা নয়। ইচ্ছাশক্তি, পরিশ্রম ও পরিবারের সমর্থন থাকলে থেমে যাওয়া পথও আবার নতুন করে শুরু করা যায়।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!