প্রকাশিত: জুন ১৪, ২০২৬, ০১:৫৬ পিএম
রাজধানীর রমনা থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় আলোচিত কনটেন্ট নির্মাতা আর এস ফাহিম চৌধুরীকে পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। রোববার (১৪ জুন) ঢাকার মহানগর আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর অনুমতি দেন আদালত।
জানা গেছে, মহানগর হাকিম মো. জুয়েল রানার আদালতে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন গ্রহণ করে আদালত ফাহিম চৌধুরীকে মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত দেখিয়ে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি মাসের ৯ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের সাইবার ও বিশেষ অপরাধ শাখার উপপরিদর্শক আমির হামজা আদালতে আবেদন দাখিল করেন। পরে আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ১৪ জুন দিন নির্ধারণ করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মামলার অনুসন্ধান চলাকালে এজাহারভুক্ত ও পলাতক কয়েকজনের পাশাপাশি আর এস ফাহিম চৌধুরীর সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তকারীদের দাবি, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া যাওয়ায় মামলার সুষ্ঠু অনুসন্ধান ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে একটি গোপন বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর রমনা পার্ক সংলগ্ন একটি এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি গোপন বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে প্রতিবন্ধকতা তৈরির পরিকল্পনার অভিযোগও রয়েছে।
তদন্ত সূত্রের ভাষ্য, ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্টরা দ্রুত সেখান থেকে সরে যান। পরে এ ঘটনায় রমনা থানার এক উপপরিদর্শক বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
এদিকে, আর এস ফাহিম চৌধুরীকে এর আগেও রাজধানীর আরেকটি মামলায় আটক করা হয়েছিল। গত ২৯ মার্চ রাজধানীর মিরপুর এলাকার একটি স্থান থেকে জনতার সহায়তায় তাকে আটক করা হয় বলে জানা যায়। পরে তাকে স্থানীয় থানায় সোপর্দ করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে অন্য থানায় হস্তান্তর করা হয়।
পরদিন জুলাই আন্দোলন ঘিরে দায়ের হওয়া একটি প্রাণহানির মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি কারাবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।
আইনজীবীদের মতে, নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানো হওয়ায় মামলার তদন্তে নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে। একই সঙ্গে আদালতের পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া।



