রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

৩ দেশের নাগরিকদের সৌদি ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ২৭, ২০২৬, ১০:৩৫ এএম

৩ দেশের নাগরিকদের সৌদি ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা

ফাইল ছবি

ইবোলা ভাইরাসের সম্ভাব্য বিস্তার ঠেকাতে কঠোর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সৌদি আরব। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আফ্রিকার তিনটি দেশের নাগরিকদের জন্য সাময়িক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দেশটি। একই সঙ্গে এসব দেশ থেকে আগত ব্যক্তিদের নতুন ভিসা প্রদান এবং সৌদি আরবে প্রবেশের অনুমতিও আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের আওতায় রয়েছে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদান। শুধু সরাসরি নয়, অন্য কোনো দেশের মাধ্যমে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টা করলেও একই বিধিনিষেধ কার্যকর হবে। এছাড়া সৌদি আরবে প্রবেশের আগে গত ২১ দিনের মধ্যে এই তিন দেশের যেকোনো একটিতে অবস্থান করেছেন— এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

দেশটির জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সীমান্ত অতিক্রম করে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতে এবং দেশের জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।

একই সঙ্গে আক্রান্ত দেশগুলোর প্রতিবেশী রাষ্ট্র থেকে আগত যাত্রীদের ক্ষেত্রেও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। দেশের সব আন্তর্জাতিক প্রবেশপথে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রোগ শনাক্তকরণ এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। প্রয়োজনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে সৌদি আরবের ভেতরে ইবোলা সংক্রমণের কোনো ঘটনা শনাক্ত হয়নি। নতুন এই বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার পরও এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন কোনো রোগী বা আক্রান্ত ব্যক্তির সন্ধান মেলেনি। ফলে দেশের সার্বিক জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক এবং নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সৌদি আরব আরও জানিয়েছে, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সংক্রামক রোগের পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা প্রস্তুত রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ইবোলার মতো প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগের ক্ষেত্রে দ্রুত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্তে কঠোর নজরদারি, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং ভ্রমণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তাই জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সৌদি আরবের এই পদক্ষেপকে সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!