প্রকাশিত: মে ১৮, ২০২৬, ১২:৪২ পিএম
ইবোলা একটি অত্যন্ত প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ, যা শরীরে প্রবেশ করে রক্তনালিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং রক্তক্ষরণজনিত জ্বর সৃষ্টি করে। ১৯৭৬ সালে আফ্রিকার জায়ারে প্রথম শনাক্ত হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময় এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে। বিশেষ করে ২০১৩–২০১৬ সালে বড় প্রাদুর্ভাবে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। সাম্প্রতিক সময়ে কঙ্গো ও উগান্ডায় সংক্রমণ বাড়ায় এটিকে আন্তর্জাতিক জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
ইবোলার প্রকারভেদ
মানুষে সংক্রমণ ঘটায় এমন চারটি প্রধান ধরন রয়েছে—জায়ারে (সবচেয়ে মারাত্মক), সুদান (উচ্চ মৃত্যুহার), বান্ডিবুগিও (মাঝারি ঝুঁকি) এবং তাই ফরেস্ট (সবচেয়ে বিরল ও কম মারাত্মক)।
লক্ষণ কী কী?
- সংক্রমণের ২ দিন থেকে ৩ সপ্তাহের মধ্যে লক্ষণ দেখা দেয়।
- প্রথমে জ্বর, মাথাব্যথা, গলাব্যথা, দুর্বলতা ও পেশিতে ব্যথা হয়।
- পরবর্তীতে বমি, ডায়রিয়া, চোখ লাল হওয়া, শরীরে রক্তক্ষরণ, খিঁচুনি ও অঙ্গ বিকল হওয়ার মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দেয়।
কীভাবে ছড়ায়?
ইবোলা বাতাসে ছড়ায় না। আক্রান্ত প্রাণী বা মানুষের শরীরের তরল (রক্ত, লালা, বমি ইত্যাদি) স্পর্শের মাধ্যমে এটি ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত জিনিস থেকেও সংক্রমণ হতে পারে।
চিকিৎসা ও নির্ণয়
রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ শনাক্ত করা হয়। চিকিৎসায় ‘ইবাঙ্গা’ ও ‘ইনমাজেব’ ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি স্যালাইন, অক্সিজেন ও অন্যান্য সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
প্রতিরোধের উপায়
টিকা গ্রহণ (এরভেবো, জ্যাবডিনো/ম্যাভবেয়া), পিপিই ব্যবহার, আক্রান্ত ব্যক্তি বা প্রাণীর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত হাত ধোয়া—এসবই সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর।



