রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

হেপাটাইটিস ‘সি’ ঝুঁকিতে বিশ্বের শীর্ষ দশে বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২৬, ১০:৪০ এএম

হেপাটাইটিস ‘সি’ ঝুঁকিতে বিশ্বের শীর্ষ দশে বাংলাদেশ

প্রতীকী ছবি

দীর্ঘস্থায়ী ভাইরাসজনিত যকৃতের প্রদাহ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রতিবছর এই রোগে আনুমানিক ১৩ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে অধিকাংশ মৃত্যুর জন্য দায়ী যকৃতের জটিলতা, বিশেষ করে যকৃত শক্ত হয়ে যাওয়া এবং যকৃতের ক্যানসার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ভাইরাসজনিত যকৃতের প্রদাহের মোট মৃত্যুর প্রায় ৯৫ শতাংশই ঘটে ‘বি’ ও ‘সি’ ধরনের সংক্রমণের কারণে।

বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত এক বার্তায় সংস্থাটি জানায়, বাংলাদেশে এই রোগের ঝুঁকি উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষ করে ‘সি’ ধরনের সংক্রমণের দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান উল্লেখযোগ্য। এ কারণে দ্রুত প্রতিরোধ, পরীক্ষা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার সম্প্রসারণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে হাজারো মানুষ নতুন করে এই দুই ধরনের সংক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছেন এবং প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। বর্তমানে এই অঞ্চলে কয়েক কোটি মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভাইরাসজনিত যকৃতের প্রদাহ নিয়ে জীবনযাপন করছেন। গত বছরও বিপুলসংখ্যক নতুন সংক্রমণ এবং মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো, সাধারণ জনগণের পাশাপাশি ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারী ব্যক্তি, নিয়মিত রক্ত গ্রহণে নির্ভরশীল রোগী এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংক্রমণের হার তুলনামূলকভাবে বেশি। একই সঙ্গে ‘বি’ ধরনের সংক্রমণজনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রোগের অন্যতম বড় সমস্যা হলো এর প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত স্পষ্ট কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। ফলে অনেকেই দীর্ঘদিন আক্রান্ত থাকার বিষয়টি বুঝতে পারেন না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে যকৃত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর রোগ শনাক্ত হয়, তখন চিকিৎসা আরও জটিল ও ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে।

তবে আশার বিষয় হচ্ছে, ‘বি’ ধরনের সংক্রমণ প্রতিরোধে বহু বছর ধরে কার্যকর টিকা রয়েছে। অন্যদিকে ‘সি’ ধরনের সংক্রমণ বর্তমানে আধুনিক ওষুধের মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। কিন্তু সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ না পাওয়া, জনসচেতনতার অভাব, সামাজিক কুসংস্কার এবং স্বাস্থ্যসেবার সীমিত প্রাপ্যতা রোগ নিয়ন্ত্রণের পথে বড় বাধা হয়ে রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশে চারটি বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নবজাতককে জন্মের প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টিকা প্রদান, নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন নিশ্চিত করা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে পরীক্ষা ও চিকিৎসা সংযুক্ত করা এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সহজলভ্য চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্প্রসারণ। পাশাপাশি রোগের সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও জাতীয় নজরদারি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার সুপারিশ করা হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি, সময়মতো স্বাস্থ্য পরীক্ষা, নিরাপদ চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ এবং টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা গেলে এই রোগের কারণে অকালমৃত্যু ও অর্থনৈতিক ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। যথাযথ পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে ভাইরাসজনিত যকৃতের প্রদাহকে জনস্বাস্থ্যের বড় হুমকি থেকে নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব বলেও তারা মনে করছেন।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!