প্রকাশিত: মে ১৯, ২০২৬, ১১:১৭ এএম
গাজায় চলমান সংঘাত ও মানবিক বিপর্যয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে চলমান সহিংসতাকে ঘিরে নতুন করে তীব্র সমালোচনা করেছে সংস্থাটি। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে ইসরায়েলকে অবিলম্বে সহিংসতা কমানোর আহ্বান জানানো হয়েছে এবং বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সোমবার প্রকাশিত এক বিস্তারিত প্রতিবেদনে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর গাজা উপত্যকায় চলমান সামরিক অভিযান নিয়ে বিস্তর বিশ্লেষণ উপস্থাপন করে। এতে বলা হয়, ২০২৫ সালের মে পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সংঘটিত ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বহু ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন গুরুতরভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, কিছু ঘটনা যুদ্ধাপরাধ বা মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে।
জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক গবেষক সংগঠনের পর্যবেক্ষণেও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের মতে, গাজায় চলমান সহিংসতা অনেক ক্ষেত্রে গণহত্যার বৈশিষ্ট্য বহন করছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭৩ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা মানবিক সংকটকে ভয়াবহ পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যদিও ইসরায়েল দাবি করে যে তারা কিছু সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনে জিম্মিদের উদ্ধারের চেষ্টা করেছে, তবুও অনেক হামলা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য নয়। বেসামরিক এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রাণহানির ঘটনাগুলোকে বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই সংঘাতের সূত্রপাত হয় ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে, যখন ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালায়। ওই ঘটনায় বিপুল সংখ্যক মানুষের মৃত্যু ঘটে এবং শতাধিক মানুষকে বন্দি করা হয়। এরপর থেকে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে এবং ধাপে ধাপে গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে স্বল্প সময়ের জন্য যুদ্ধবিরতি হলেও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে পর্যবেক্ষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় বোমাবর্ষণ ও সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠী ও সামরিক বাহিনীর কার্যক্রমও বেড়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বিস্তীর্ণ অংশ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া এবং স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রা ধ্বংসের চেষ্টা একটি পরিকল্পিত ও দ্রুত বর্ধনশীল প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান স্পষ্টভাবে বলেছেন, ইসরায়েলকে অবশ্যই এমন সব কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে যা গণহত্যার ঝুঁকি তৈরি করে। একই সঙ্গে বাস্তুচ্যুত মানুষের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা এবং দখলকৃত অঞ্চলে অবৈধ উপস্থিতি বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের প্রধান এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, যুদ্ধবিরতি থাকলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর জবাবদিহি ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। দীর্ঘদিনের দখলদারিত্ব ও রাজনৈতিক জটিলতার কোনো স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও সংকটময় হয়ে উঠছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান অবস্থায় রাজনৈতিক সমাধান ছাড়া এই সংঘাত থামানো কঠিন হয়ে পড়েছে। মানবিক বিপর্যয় ক্রমেই বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক মহলের চাপও বাড়ছে। তবে স্থায়ী সমাধানের পথে অগ্রগতি এখনো অনেক দূরে।



