রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি আরও ২ মাস বাড়ানোর পথে

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ২৪, ২০২৬, ১১:০৬ এএম

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি আরও ২ মাস বাড়ানোর পথে

প্রতীকী ছবি

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও দুই মাস বা ৬০ দিন বাড়ানোর বিষয়ে একটি সম্ভাব্য সমঝোতার দিকে অগ্রসর হচ্ছে উভয় পক্ষ। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম ও মধ্যস্থতাকারী সূত্রের বরাতে জানা গেছে, দুই দেশের মধ্যে চলমান আলোচনায় ধীরে ধীরে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে।

সূত্রগুলো জানায়, আলোচনার অংশ হিসেবে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি নতুন কাঠামো তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির মতো কৌশলগত জলপথ ধীরে ধীরে পুনরায় স্বাভাবিক করার পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি পরিবহন হয়ে থাকে, ফলে বিষয়টি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আলোচনায় আরও উঠে এসেছে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত কমানো কিংবা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে ইরানের ওপর আরোপিত কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে পারে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, আলোচনায় উভয় পক্ষের মধ্যে এখনো গুরুত্বপূর্ণ মতবিরোধ রয়ে গেছে। ইরান অভিযোগ করছে, যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শর্ত ও চাপ আলোচনার অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকেও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে।

এই উত্তেজনার মধ্যেই কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে আঞ্চলিক শক্তিগুলো। সম্প্রতি পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের তেহরান সফর এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠককে ঘিরে নতুন করে আলোচনার গতি তৈরি হয়েছে। দুই পক্ষই সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ব্যস্ততা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সূত্রের দাবি।

সব মিলিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এখন এক জটিল ও সংবেদনশীল পর্যায়ে অবস্থান করছে। তবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে তা মধ্যপ্রাচ্যে আপাত শান্তি ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!