রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পারমাণবিক ইস্যুতে ইরানকে কঠোর বার্তা ট্রাম্পের

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ৩০, ২০২৬, ১১:২৭ এএম

পারমাণবিক ইস্যুতে ইরানকে কঠোর বার্তা ট্রাম্পের

ফাইল ছবি

ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উপদেষ্টাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেও এখনো কোনো চূড়ান্ত অবস্থানে পৌঁছাতে পারেননি। হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

শুক্রবার প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক উপদেষ্টারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের মূল আলোচনায় ছিল ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম এবং দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার ভবিষ্যৎ। তবে দীর্ঘ আলোচনার পরও তাৎক্ষণিক কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানকে অবশ্যই এমন নিশ্চয়তা দিতে হবে যাতে তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে না এগোয়। একই সঙ্গে তিনি হরমুজ প্রণালিতে উভয়মুখী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়েও জোর দিয়েছেন। তার মতে, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে স্থাপন করা মাইন সরিয়ে নিরাপদ চলাচলের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, তাদের প্রধান মনোযোগ যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার দিকে এবং বর্তমানে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা চলছে না। ইরানের পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশটি নিজেদের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকেই এখন অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

মার্কিন প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তার দাবি, দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতার কাঠামো নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে অগ্রগতি হয়েছে। এই কাঠামোর আওতায় বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির সময়সীমা আরও ষাট দিন বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আলোচনার পথও খোলা রাখা হয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বেশ কিছু কঠোর শর্ত সামনে রাখা হয়েছে। ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত অপসারণ ও ধ্বংসের বিষয়ে সম্মতি ছাড়া কোনো অর্থনৈতিক ছাড় বা লেনদেন সম্ভব হবে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনো সমঝোতায় যাবে না, যা ভবিষ্যতে ইরানকে পারমাণবিক সক্ষম রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার সুযোগ দেয়।

এদিকে ইরানের বিভিন্ন সূত্র বলছে, সম্ভাব্য সমঝোতা কাঠামোতে পারমাণবিক উপকরণ ধ্বংসের বাধ্যবাধকতা নেই। দেশটির পক্ষ থেকে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যকে বাস্তবতা ও অতিরঞ্জনের মিশ্রণ বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।

গত এপ্রিল মাসে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর থেকে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে আশাবাদের কথা শোনা গেলেও বাস্তবে এখনো বড় ধরনের অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়নি। ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ও পারমাণবিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে দুই দেশের অবস্থান কঠোর থাকায় দ্রুত সমাধানে পৌঁছানো সহজ হবে না। তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে নতুন সমঝোতার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!