প্রকাশিত: জুন ২, ২০২৬, ০৭:৩২ পিএম
পবিত্র হজ শেষে হাজিদের ব্যবহৃত ইহরামের কাপড়কে আবর্জনায় পরিণত না করে পরিবেশবান্ধব সম্পদে রূপান্তর করছে সৌদি আরব। ‘টেকসই ইহরাম’ নামের এই বিশেষ প্রকল্পের আওতায় গত এক বছরে ব্যবহৃত ইহরাম পুনর্ব্যবহার করে ৫ হাজারেরও বেশি নতুন পণ্য তৈরি করা হয়েছে।
সৌদি আরবের জাতীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের মুখপাত্র সুলতান আল-হার্থি জানিয়েছেন, এই উদ্যোগ সৌদি ভিশন ২০৩০-এর লক্ষ্য বাস্তবায়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সঙ্গে এটি জাতীয় রূপান্তর কর্মসূচি ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন প্রকল্পেরও অংশ।
হজের সময় পুরুষ হাজিদের জন্য সেলাইবিহীন সাদা ইহরাম পরিধান বাধ্যতামূলক। হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর বিপুল পরিমাণ ইহরামের কাপড় অব্যবহৃত থেকে যায়। সেই কাপড় সংগ্রহ করে নতুনভাবে ব্যবহারযোগ্য পণ্যে রূপান্তর করা হচ্ছে।
সুলতান আল-হার্থি বলেন, প্রকল্পটি পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখছে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে উৎপাদনমুখী পরিবারের নারীরা এর মাধ্যমে আয় করার সুযোগ পাচ্ছেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যবহৃত ইহরাম থেকে ৫ হাজারের বেশি পণ্য তৈরি হওয়ায় পরিবহন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পাশাপাশি ৩০টি খণ্ডকালীন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং ২৫ জন প্রান্তিক নারী দর্জি আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
পরিবেশগত দিক থেকেও প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর মাধ্যমে ২১১ টনের বেশি কাপড়ের বর্জ্য ল্যান্ডফিলে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে, যা কার্বন নিঃসরণ কমাতেও সহায়তা করেছে।
জাতীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র জানিয়েছে, পবিত্র স্থানগুলোর নির্দিষ্ট বুথ থেকে ব্যবহৃত ইহরাম সংগ্রহ করা হয়। পরে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সেগুলো জীবাণুমুক্ত ও মান যাচাই করে নতুন পণ্য তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয়।
বর্তমানে এই কাপড় দিয়ে ব্যাগ, বালিশ, বিভিন্ন ধরনের কভার এবং উপহারসামগ্রী তৈরি করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি, বেসরকারি ও অলাভজনক ২২টি প্রতিষ্ঠানের যৌথ অংশগ্রহণে পরিচালিত এই প্রকল্প বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের একটি সফল উদাহরণ। ভবিষ্যতে সৌদি আরবের অন্যান্য বড় প্রকল্পেও এই মডেল প্রয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।



