প্রকাশিত: জুন ৮, ২০২৬, ১০:৩০ এএম
ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর এশিয়ার কয়েকটি দেশে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সোমবার সকালে সংঘটিত এ দুর্যোগের পর উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন দেশে উদ্বেগ বাড়ছে এবং জরুরি প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।
ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল প্রায় সাতটা চল্লিশ মিনিটের দিকে ফিলিপাইনের মিন্দানাও দ্বীপ এলাকায় প্রবল কম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮, যা অত্যন্ত শক্তিশালী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গভীরে এর উৎপত্তি হওয়ায় বিস্তৃত এলাকায় কম্পন ছড়িয়ে পড়ে।
শক্তিশালী এই ভূমিকম্পের পরপরই প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সুনামির আশঙ্কা দেখা দেয়। সতর্কতা কেন্দ্র জানিয়েছে, ফিলিপাইনের কিছু উপকূলে প্রায় ১০ ফুট পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার উপকূলীয় এলাকাতেও কয়েক ফুট উচ্চতার ঢেউ আঘাত হানতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফিলিপাইন সরকার উপকূলীয় জনগণকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট এক জরুরি বার্তায় জনগণের উদ্দেশে বলেন, কোনো ধরনের ঝুঁকি না নিয়ে দ্রুত উঁচু স্থানে আশ্রয় নিতে হবে। ইতোমধ্যে মিন্দানাওয়ের কিছু এলাকায় অস্বাভাবিক ঢেউয়ের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে জাপান, ইন্দোনেশিয়াসহ কয়েকটি দেশও সুনামি সংক্রান্ত সতর্কবার্তা জারি করেছে। জাপান সরকার উপকূলবর্তী অঞ্চলের মানুষকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলতে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে অনুরোধ জানিয়েছে। একইভাবে ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগও স্থানীয় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দৃশ্যে দেখা গেছে, ভূমিকম্পের আঘাতে কয়েকটি ভবন আংশিক বা পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কোথাও ধুলোর ঘন মেঘের মধ্যে স্থাপনা ভেঙে পড়ার ঘটনাও দেখা গেছে। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্প-পরবর্তী প্রথম কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় আফটারশকের আশঙ্কা থাকে এবং সুনামির ঝুঁকিও বেশি হতে পারে। তাই জনগণকে গুজব এড়িয়ে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে এ ধরনের শক্তিশালী কম্পন নতুন নয়। তবে এবারের মাত্রা ও সম্ভাব্য সুনামি পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থাগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।



