রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় নিহত ১৩

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২৬, ০১:০১ পিএম

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় নিহত ১৩

ছবি: সংগৃহীত

আফগানিস্তানের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পাকিস্তানের চালানো সাম্প্রতিক বিমান হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষ বলে জানিয়েছে আফগান প্রশাসন। এ ঘটনায় দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আফগান প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় এই হামলা সংঘটিত হয়। স্থানীয় সময় গভীর রাতে চালানো এই হামলায় বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। আহতদের বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

আফগান প্রশাসনের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে দাবি করেন, সীমান্তঘেঁষা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান হামলা চালিয়েছে। নিহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু রয়েছে, যা মানবিক দিক থেকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করা হয়েছে। একই সঙ্গে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের আহ্বান জানিয়েছে কাবুল।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।

জানা গেছে, পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী একটি নিরাপত্তা চৌকিতে সাম্প্রতিক হামলার পরই উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। ওই ঘটনায় কয়েকজন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হওয়ার পর কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেয় ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী দাবি করে, তারা পাল্টা অভিযানে কয়েকজন হামলাকারীকেও হত্যা করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই সংঘাত মূলত সীমান্ত নিরাপত্তা ও সশস্ত্র গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে আরও তীব্র হয়েছে। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে কিছু উগ্র গোষ্ঠী পাকিস্তানের অভ্যন্তরে হামলা চালাচ্ছে। যদিও আফগান প্রশাসন বরাবরই এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

এদিকে, কয়েক মাস আগে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগে আলোচনার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে সংঘাত এড়িয়ে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখানো হয়। তবে সাম্প্রতিক হামলা সেই কূটনৈতিক অগ্রগতিকে আবারও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের ধারণা, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনলে সীমান্ত অঞ্চলে আরও বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। এতে শুধু দুই দেশের নিরাপত্তা নয়, পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করেছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!