রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কাবুলে স্কুলের কাছে গ্রেনেড বিস্ফোরণে আহত ৪২ শিশু

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ১৯, ২০২৬, ১০:০৬ এএম

কাবুলে স্কুলের কাছে গ্রেনেড বিস্ফোরণে আহত ৪২ শিশু

ছবি: সংগৃহীত

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি স্কুলের কাছে হ্যান্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণে অন্তত ৪২ শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। আহত শিশুদের বয়স ৯ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের রাজনৈতিক মিশন। স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণে আহতের প্রকৃত সংখ্যা ৫০ জনের কাছাকাছি হতে পারে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) কাবুলের দশত-ই-বার্চি এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে। এলাকাটি মূলত হাজারা শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের বসবাসের জন্য পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে এই সম্প্রদায়ের মানুষ বিভিন্ন চরমপন্থী গোষ্ঠীর হামলা ও বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে।

বিস্ফোরণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। ঘটনাটির প্রকৃত কারণ এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা নির্ধারণে দ্রুত ও স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে। আফগানিস্তানের জন্য জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্তকারী রিচার্ড বেনেট ঘটনাটিকে নিন্দনীয় হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, কাবুলের হাজারা অধ্যুষিত এলাকায় আবারও শিশুদের লক্ষ্য করে এমন ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। হামলার জন্য দায়ীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেছেন।

জাতিসংঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিস্ফোরণের প্রকৃত পরিস্থিতি ও এর পেছনের কারণ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। আহত শিশুদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

দশত-ই-বার্চি এলাকায় এর আগেও ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২০২১ সালে একই এলাকার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরপর কয়েকটি বিস্ফোরণে বহু শিক্ষার্থী নিহত হয়েছিল। নিহতদের বড় একটি অংশ ছিল কিশোরী।

নতুন এই বিস্ফোরণের ঘটনা আফগানিস্তানের শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তৈরি করেছে। দেশটির শিক্ষা পরিস্থিতিও দীর্ঘদিন ধরে সংকটের মধ্যে রয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণির পর মেয়েদের বিদ্যালয়ে পড়াশোনা বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি সম্প্রতি দেশে ফিরে আসা বিপুলসংখ্যক শিশুর একটি বড় অংশ এখনো বিদ্যালয়ের বাইরে রয়েছে।

অর্থনৈতিক সংকট, নিরাপত্তাহীনতা ও শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণে আফগান শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জোরালো হয়েছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!