প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ০৮:২১ পিএম
আফগানিস্তানের ক্রিকেটাঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। দেশটির সাবেক তারকা পেসার শাপুর জাদরান দীর্ঘদিন ধরে বিরল এক জটিল রোগের সঙ্গে লড়াই করার পর শেষ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন। মঙ্গলবার ভারতের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৩৮ বছর। ৩৯তম জন্মদিনের মাত্র এক দিন আগে তাঁর এই বিদায় ক্রিকেটপ্রেমীদের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।
পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, শাপুর জাদরান দীর্ঘদিন ধরে বিরল রোগ হেমোফ্যাগোসাইটিক লিম্ফোহিস্টিওসাইটোসিস-এ আক্রান্ত ছিলেন। গত বছরের শেষ ভাগে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ভারতে নেওয়া হয়। রাজধানী দিল্লির একটি হাসপাতালে কয়েক মাস ধরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছিল।
চিকিৎসার একপর্যায়ে তাঁর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর শারীরিক অবস্থার আবার অবনতি ঘটে। এরপর তাঁকে পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়। চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।
শাপুর জাদরানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। এক শোকবার্তায় বোর্ড জানায়, দেশের ক্রিকেটের বিকাশে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যু শুধু আফগানিস্তান নয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্যও এক অপূরণীয় ক্ষতি।
আফগানিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসে শাপুর জাদরান ছিলেন অন্যতম পথিকৃৎ পেসার। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দলটির যাত্রার শুরুতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। নিজের গতিময় বোলিং, লড়াকু মানসিকতা এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি দেশের ক্রিকেটকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে সহায়তা করেন।
একদিনের আন্তর্জাতিক ও বিশ ওভারের আন্তর্জাতিক—উভয় ধরনের ক্রিকেটেই তিনি দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তাঁর বোলিং প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের জন্য ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। মাঠে তাঁর আগ্রাসী মনোভাব এবং দলের প্রতি নিবেদন তাঁকে সতীর্থ ও সমর্থকদের কাছে বিশেষ মর্যাদা এনে দেয়।
আফগানিস্তান যখন বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করার সংগ্রামে ছিল, তখন সেই অভিযাত্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন শাপুর জাদরান। তাঁর অবদানেই দলটি ধীরে ধীরে বড় বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় জায়গা করে নেয় এবং বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের পরিচিতি গড়ে তোলে। তাঁর মৃত্যুতে আফগান ক্রিকেট হারাল এক নিবেদিতপ্রাণ যোদ্ধাকে, যার স্মৃতি দীর্ঘদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে ক্রিকেট বিশ্ব।



