প্রকাশিত: আগস্ট ৩, ২০২৬, ১০:১৮ এএম
উন্নত জীবিকার আশায় দেশ ছেড়ে ইরানে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ১৯ জন আফগান নাগরিক। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই তাদের জীবন থেমে যায় সীমান্তঘেঁষা ভয়ংকর মরুভূমিতে। তীব্র গরম, পানির চরম সংকট এবং দীর্ঘ পথচলার ক্লান্তিতে একে একে প্রাণ হারান তারা। এ মর্মান্তিক ঘটনায় আফগানিস্তানে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নিহতরা আফগানিস্তানের বাদঘিস প্রদেশের বাসিন্দা ছিলেন। জীবিকার সন্ধানে অবৈধ পথে ইরানে প্রবেশের উদ্দেশ্যে তারা যাত্রা শুরু করেন। পথিমধ্যে নিমরোজ প্রদেশের বিস্তীর্ণ মরুভূমিতে প্রবেশ করার পর তারা পানির সংকটে পড়ে যান। প্রচণ্ড তাপদাহ এবং পানিশূন্যতার কারণে তারা আর এগোতে পারেননি।
নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসন, উদ্ধারকারী দল এবং এলাকার বাসিন্দারা যৌথভাবে অনুসন্ধান অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের একপর্যায়ে রিগ লালো মরুভূমি থেকে ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে দাশ্ত-এ মার্গো নামে পরিচিত আরেকটি মরুভূমি এলাকা থেকে আরও পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছিল। সব মিলিয়ে ওই দলের ১৯ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, দুর্গম মরুভূমি থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়েছে। নিহতদের পরিচয়ও নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা সবাই একই এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং অর্থনৈতিক সংকট থেকে মুক্তির আশায় ঝুঁকিপূর্ণ এই পথ বেছে নিয়েছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী নিমরোজ অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ অভিবাসীদের অন্যতম চলাচলের পথ। তবে এই মরুভূমি অত্যন্ত বিপজ্জনক। গ্রীষ্মকালে এখানে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় এবং পানির উৎস না থাকায় যেকোনো সময় প্রাণহানির আশঙ্কা থাকে।
মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো বহুদিন ধরেই সতর্ক করে আসছে, মরুভূমি পাড়ি দিয়ে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে প্রচণ্ড গরম, পানিশূন্যতা এবং দীর্ঘ পথচলার কারণে অনেক অভিবাসী মৃত্যুর মুখে পড়ছেন। সাম্প্রতিক এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, নিরাপদ ও বৈধ পথের পরিবর্তে ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।



