প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২৬, ০১:৪৯ পিএম
দক্ষিণ আফ্রিকার বৃহত্তম নগরী জোহানেসবার্গে ভয়াবহ গণগুলির ঘটনায় অন্তত ১২ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৯ জন। আকস্মিক এই হামলার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী ইতোমধ্যে হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে।
স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার গভীর রাতে জোহানেসবার্গের ক্লিভল্যান্ড এলাকার একটি ঘনবসতিপূর্ণ বস্তিতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাতের নিরবতা ভেঙে হঠাৎ করেই গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। এতে বাসিন্দাদের মধ্যে চরম ভীতি ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি শুরু করেন।
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, একটি সাদা রঙের যাত্রীবাহী গাড়িতে করে একদল অস্ত্রধারী হামলাকারী ঘটনাস্থলের কাছাকাছি পৌঁছে। পরে তারা বস্তির একাধিক দিক দিয়ে প্রবেশ করে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেওয়া লোকজনকে লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালায়। কয়েক মিনিটের এই হামলায় ঘটনাস্থলেই বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে প্রথমে আটজন পুরুষ ও তিনজন নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হওয়ায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে দাঁড়ায়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। তাদের বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও জরুরি উদ্ধারকারী দল দ্রুত এলাকায় পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পুরো এলাকা ঘিরে রেখে আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে হামলার পেছনের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ব্যক্তিগত বিরোধ, সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র কিংবা আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হামলা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা।
দক্ষিণ আফ্রিকায় দীর্ঘদিন ধরেই সহিংস অপরাধ বড় উদ্বেগের বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ দরিদ্র এলাকাগুলোতে সংঘবদ্ধ অপরাধ, মাদক ব্যবসা ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর আধিপত্যের কারণে প্রায়ই প্রাণঘাতী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, অবৈধ অস্ত্রের সহজলভ্যতা এমন সহিংসতা বাড়িয়ে তুলছে।
দেশটির বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এই ঘটনার দ্রুত তদন্ত এবং দায়ীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীদের শনাক্তে আশপাশের নজরদারি চিত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং সন্দেহভাজনদের খুঁজে বের করতে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।



