রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

‘মায়ের দোয়া থাকলে সব সম্ভব’, জাতীয় দলের হয়ে ট্রিপল সেঞ্চুরি করতে চান হৃদয়

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬, ০১:০০ পিএম

‘মায়ের দোয়া থাকলে সব সম্ভব’, জাতীয় দলের হয়ে ট্রিপল সেঞ্চুরি করতে চান হৃদয়

ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমে ব্যাট হাতে ইতিহাস গড়ার পর এবার জাতীয় দলের জার্সিতে আরও বড় কীর্তির স্বপ্ন দেখছেন তাওহীদ হৃদয়। বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে চার দিনের ম্যাচে অপরাজিত ৩৫০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে নিজের আত্মবিশ্বাস যেমন বাড়িয়েছেন, তেমনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও এমন দীর্ঘ ও বড় ইনিংস খেলার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন তিনি।

পচেফস্ট্রুমে হৃদয়ের ব্যাট থেকে এসেছে বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস। ৪৮১ বল মোকাবিলা করে তিনি ৩৫০ রানে অপরাজিত থাকেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ২৭টি চার ও ১০টি ছক্কা। এর মধ্য দিয়ে তিনি পেছনে ফেলেছেন তামিম ইকবালের অপরাজিত ৩৩৪ রানের রেকর্ড। একই সঙ্গে দেশের বাইরে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের প্রথম তিনশ রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেছেন হৃদয়।

তবে রেকর্ডের এই সাফল্যকে ক্যারিয়ারের শেষ গন্তব্য হিসেবে দেখছেন না ২৫ বছর বয়সী এই ব্যাটার। বরং পচেফস্ট্রুমের ইনিংস তাঁকে সামনে আরও বড় কিছু করার সাহস জুগিয়েছে। ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে পাওয়ার পর তাঁর মনে হয়েছে, একদিন জাতীয় দলের হয়েও এমন অসাধারণ ইনিংস খেলার সুযোগ তিনি পেতে পারেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে হৃদয় জানিয়েছেন, এই ইনিংস তাঁকে আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী করেছে। দেশ-বিদেশ থেকে পাওয়া শুভকামনার জন্য তিনি সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন। পাশাপাশি জাতীয় দলের হয়ে বড় ইনিংস খেলার ইচ্ছার কথাও জানান।

হৃদয়ের কাছে এই স্বপ্ন পূরণের পথে সবচেয়ে বড় শক্তিগুলোর একটি তাঁর মায়ের দোয়া। তিনি বিশ্বাস করেন, সৃষ্টিকর্তার রহমত ও মায়ের দোয়া থাকলে কঠিন লক্ষ্যও অর্জন করা সম্ভব। ফলে পচেফস্ট্রুমের সাড়ে তিনশ রানের ইনিংস তাঁর কাছে শুধু একটি রেকর্ড নয়, বরং ভবিষ্যতের আরও বড় সাফল্যের অনুপ্রেরণা।

দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে হৃদয়ের এই ইনিংসের শুরুটা অবশ্য খুব সহজ ছিল না। বাংলাদেশ ‘এ’ দল প্রথম ইনিংসে বেশ বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কায় ছিল। একপর্যায়ে দলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন ব্যাটার দ্রুত সাজঘরে ফিরে যান। তখন এক প্রান্ত আগলে রেখে দলের ইনিংসকে টেনে নেওয়ার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন হৃদয়।

দলের অষ্টম উইকেট পড়ে যাওয়ার সময় তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রহ ছিল ২২৫ রান। সেখান থেকে রেজাউর রহমান রাজাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। নবম উইকেটে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলের সংগ্রহকে বড় জায়গায় নিয়ে যান দুজন। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ‘এ’ দল ৮ উইকেটে ৬৭৬ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। ম্যাচটি পরে ড্র হয়।

হৃদয়ের ইনিংসটি শুধু ব্যক্তিগত রেকর্ডেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এর আগে তিনশ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন রাকিবুল হাসান ও তামিম ইকবাল। রাকিবুলের অপরাজিত ৩১৩ এবং তামিমের অপরাজিত ৩৩৪ রানের পর এবার সেই তালিকায় যোগ হলো হৃদয়ের নাম। তবে সবার ওপরে উঠে গেছেন তিনি ৩৫০ রান করে।

বিশেষ করে বিদেশের মাটিতে এই অর্জন হৃদয়ের কীর্তিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। দেশের বাইরে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের তিনশ রানের ইনিংস ছিল না। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত প্রথম শ্রেণির ইনিংসের রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন তিনি।

জাতীয় দলের হয়ে ইতিমধ্যে সাদা বলের ক্রিকেটে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন হৃদয়। এবার দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে ৩৫০ রানের ইনিংস তাঁর ব্যাটিংয়ের আরেকটি দিক সামনে এনেছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী ধৈর্য ধরে ব্যাট করা, দীর্ঘ সময় উইকেটে থাকা এবং প্রয়োজনের সময় আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠার সক্ষমতা এই ইনিংসে স্পষ্ট হয়েছে।

পচেফস্ট্রুমের এই সাফল্যের পর তাই হৃদয়ের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ—জাতীয় দলের হয়ে বড় মঞ্চে নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করা। তিনশ রানের স্বপ্ন পূরণ হবে কি না, তা সময়ই বলবে। তবে মায়ের দোয়া ও নিজের আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করে সেই স্বপ্নের পথে এগিয়ে যেতে চান বাংলাদেশের এই তরুণ ব্যাটার।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!