রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

তেহরানের দাবি মেনে বড় ছাড়, নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১৪, ২০২৬, ০৭:০৭ পিএম

তেহরানের দাবি মেনে বড় ছাড়, নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর নতুন এক সমঝোতার পথে এগোচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। পারমাণবিক কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষ একটি প্রাথমিক সমঝোতা কাঠামো প্রস্তুত করেছে বলে জানা গেছে। এই কাঠামোর ভিত্তিতে আগামী ষাট দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আলোচনা চালানো হবে।

প্রস্তাবিত সমঝোতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইরান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌযানের জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ উন্মুক্ত রাখবে। এর বিনিময়ে ইরানের সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর আরোপিত বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আশা করছে, এ পদক্ষেপ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও সামুদ্রিক বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আলোচনায় রয়েছে ইরানের ওপর নতুন কোনো অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ আরোপ না করা এবং বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞাগুলো ধীরে ধীরে শিথিল করার বিষয়। পাশাপাশি বিদেশে আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করার বিষয়েও ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলে জানা গেছে। এ অর্থ দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হতে পারে।

এছাড়া ইরানের জ্বালানি খাতকে পুনরায় আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। এর ফলে দেশটি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ পাবে এবং দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চাপ কিছুটা কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত আলোচনায় ইরান প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে অগ্রসর হবে না। একই সঙ্গে বর্তমান কর্মসূচির পরিধি বাড়ানো থেকেও বিরত থাকবে। উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের কাঠামো নিয়ে পরবর্তী পর্যায়ের বৈঠকে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের সহায়তায় আলোচনা এগিয়ে চলছে। উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা ইতোমধ্যে একাধিক দফা যোগাযোগ করেছেন এবং সমঝোতার ক্ষেত্রগুলো আরও সুস্পষ্ট করার চেষ্টা করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনাগুলো সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা হ্রাস পেতে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এখন নজর রয়েছে আগামী কয়েক সপ্তাহের কূটনৈতিক অগ্রগতির দিকে, যা দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!