রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শান্তি চুক্তিতে একমত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, খুলছে হরমুজ প্রণালি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১৫, ২০২৬, ০৮:২৯ এএম

শান্তি চুক্তিতে একমত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, খুলছে হরমুজ প্রণালি

প্রতীকী ছবি

দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে অবশেষে শান্তির পথে এগোলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। যুদ্ধ পরিস্থিতি নিরসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতায় পৌঁছেছে দুই দেশ। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এই শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানা গেছে।

সোমবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তিনি বলেন, কয়েক দফা আলোচনার পর দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা চূড়ান্ত হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান ভূমিকা পালন করেছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

শেহবাজ শরিফের ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বিষয়টি নিশ্চিত করেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি দাবি করেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে এবং এটি দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।

ট্রাম্প আরও জানান, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে সেখানে আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক রাখতে এ সিদ্ধান্ত বড় ভূমিকা রাখবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি কার্যকর হলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা অনেকটাই কমে আসতে পারে। বিশেষ করে তেলবাহী জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছিল।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, সুইজারল্যান্ডে নির্ধারিত চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে নতুন আলোচনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তির বিস্তারিত শর্ত প্রকাশ করা হয়নি, তবুও উভয় পক্ষের ইতিবাচক অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আশাবাদের বার্তা দিচ্ছে।

যুদ্ধ ও সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের এই উদ্যোগ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বার্তা দেবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন সবার নজর শুক্রবারের আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের দিকে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!