প্রকাশিত: জুন ১৯, ২০২৬, ০৭:৫৪ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা আপাতত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা দুই দেশের পরবর্তী পর্যায়ের বৈঠক স্থগিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সময়ে দক্ষিণ লেবাননে ভয়াবহ হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, উভয় পক্ষের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতার বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে বৈঠকের প্রস্তুতি চলছিল। তবে শেষ মুহূর্তে সফরসূচিতে পরিবর্তন আসায় সেই উদ্যোগ আপাতত পিছিয়ে যায়। এর ফলে বহুল আলোচিত সংলাপের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সুইজারল্যান্ডে নির্ধারিত বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সমুদ্রপথে চলাচল, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ এবং পারমাণবিক কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছিল, এই সংলাপ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। কিন্তু বৈঠক স্থগিত হওয়ায় সেই আশাবাদে সাময়িক ভাটা পড়েছে।
এদিকে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে চালানো বিমান হামলায় বহু মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। হামলার পর নিরাপত্তাহীনতায় আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছেন। ফলে বিভিন্ন সড়কে ব্যাপক যানজট ও মানবিক সংকটের লক্ষণ দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে হামলাকারী পক্ষ দাবি করেছে, নির্দিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীর স্থাপনা ও সদস্যদের লক্ষ্য করেই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই এমন হামলা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, সাম্প্রতিক সমঝোতার আওতায় যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল, সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধারাবাহিক সংলাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বৈঠক পিছিয়ে যাওয়ায় সেই প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আলোচনা পুরোপুরি বাতিল হয়নি। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করে নতুন সময়সূচি অনুযায়ী বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা চলছে। সুইস কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, আলোচনার জন্য তাদের প্রস্তুতি বহাল রয়েছে এবং উপযুক্ত সময় নির্ধারণ করা হলে তারা সহযোগিতা করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সংলাপই উত্তেজনা কমানোর সবচেয়ে কার্যকর পথ। তাই বৈঠক স্থগিত হলেও সংলাপের দরজা খোলা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন আন্তর্জাতিক মহল অপেক্ষা করছে, কবে আবার আলোচনার টেবিলে মুখোমুখি হবে দুই দেশ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার পথে নতুন কোনো অগ্রগতি আসে কি না।



