প্রকাশিত: জুন ১৫, ২০২৬, ০৯:১৩ এএম
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। লেবাননের রাজধানী বৈরুত ও আশপাশের এলাকায় ইসরায়েলের সামরিক হামলা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনা স্থগিত হতে পারে বলে কড়া বার্তা দিয়েছে ইরান। তেহরান বলছে, চলমান পরিস্থিতি শুধু আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকেই হুমকিতে ফেলছে না, বরং কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকেও দুর্বল করে দিচ্ছে।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেন, বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে সাম্প্রতিক হামলা প্রমাণ করেছে যে যুক্তরাষ্ট্র হয় তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আন্তরিক নয়, অথবা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্ষমতা হারিয়েছে। তার ভাষ্য, সংঘাত বন্ধে বাস্তব পদক্ষেপ না থাকলে আলোচনার পরিবেশ নষ্ট হবে।
একই সময়ে ইরানের সামরিক নেতৃত্ব থেকেও কঠোর অবস্থানের আভাস দেওয়া হয়েছে। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাফর আসাদি সতর্ক করে বলেন, লেবাননে সংঘটিত সাম্প্রতিক হামলার যথাযথ প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে। তিনি ইঙ্গিত দেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে ইরান নীরব থাকবে না।
লেবাননের সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যে জানা গেছে, সাম্প্রতিক বিমান হামলায় বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে প্রাণহানি ও আহতের ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। চলমান সংঘাতের কারণে বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অন্যত্র সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়েও আলোচনা চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ একটি সমঝোতা খুব দ্রুত সম্পন্ন হতে পারে। তবে সময়সূচি ও চূড়ান্ত শর্ত নিয়ে এখনো ভিন্ন অবস্থানে রয়েছে তেহরান।
ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যেকোনো সমঝোতার ক্ষেত্রে লেবাননসহ আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধ, অবরোধ শিথিল এবং অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা প্রত্যাহারের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে বিবেচনায় থাকবে। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করা এবং আন্তর্জাতিক জলপথে স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করা হোক।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান উত্তেজনার মধ্যেই যদি কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতি না হয়, তাহলে পুরো অঞ্চলে নতুন করে অস্থিতিশীলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।



