প্রকাশিত: জুন ১৬, ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনা প্রশমনে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইসরায়েলের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই সমঝোতার পর অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র চাপের মুখে পড়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, বহু বছর ধরে গড়ে ওঠা নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থান ও নিরাপত্তাকেন্দ্রিক কৌশল এই পরিস্থিতিতে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
দীর্ঘ সময় ধরে নেতানিয়াহু নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উপস্থাপন করে এসেছেন। পাশাপাশি পশ্চিমা নীতিনির্ধারণী মহলেও তার প্রভাব নিয়ে নানা আলোচনা ছিল। তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর পরিস্থিতি ভিন্ন মোড় নিয়েছে। বিশেষ করে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে সামরিক পদক্ষেপের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য অসন্তোষ নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভাবমূর্তিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এমন অবস্থান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর জন্য অস্বস্তিকর বার্তা বহন করছে। কারণ, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে দেশের নিরাপত্তার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য নেতা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করে আসছিলেন। কিন্তু নতুন সমঝোতা সেই ভাবমূর্তিকে বিতর্কিত করে তুলেছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, যুদ্ধবিরতির ফলে আঞ্চলিক বাস্তবতায় নতুন পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে লেবানন পরিস্থিতিতে ইরানের প্রভাব বজায় থাকলে ইসরায়েলের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। এ নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে মতবিরোধ আরও প্রকট হয়েছে।
ইসরায়েলের বিরোধী নেতারাও বর্তমান পরিস্থিতিকে সরকারের জন্য কঠিন পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন। তাদের ভাষ্য, এখন দেশটির সামনে দুটি জটিল বাস্তবতা রয়েছে—একদিকে দীর্ঘদিনের প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা, অন্যদিকে জাতীয় নিরাপত্তা প্রশ্নে আপসের অভিযোগের মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি।
এদিকে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটের ভেতর থেকেও অসন্তোষের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। কট্টরপন্থী অংশের কয়েকজন নেতা প্রকাশ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আপত্তি তুলেছেন এবং এটিকে ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত নয় বলে মন্তব্য করেছেন।
সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক এই সমঝোতা নেতানিয়াহুর জন্য নতুন রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তবে এখন পর্যন্ত তিনি এ বিষয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য দেননি। বিশ্লেষকদের ধারণা, পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা পর্যবেক্ষণ করেই তিনি পরবর্তী কৌশল নির্ধারণ করতে চাইছেন। ফলে ইসরায়েলের রাজনীতিতে সামনের দিনগুলো আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।



