প্রকাশিত: জুন ১৬, ২০২৬, ০৪:০০ পিএম
দীর্ঘ উত্তেজনা ও সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতায় পৌঁছানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, দুই পক্ষের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা সম্পন্ন হওয়ার পর যুদ্ধের অবসান ঘটেছে এবং স্বাক্ষরিত স্মারক আগামী শুক্রবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে।
তিনি বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এই সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, লেবাননের পরিস্থিতিকে ইরান অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, লেবাননের ভূখণ্ডে যেকোনো ধরনের সামরিক দখল বা আগ্রাসন নতুন সমঝোতার চেতনার পরিপন্থী বলে বিবেচিত হবে।
আরাঘচি আরও বলেন, ভবিষ্যতে লেবাননের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হামলা বা দখলদারিত্বকে ইরান গ্রহণযোগ্য মনে করবে না। তিনি দাবি করেন, আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন করতে হবে।
আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক সম্পর্কে তিনি জানান, আলোচনা দুটি পৃথক ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করা, সামুদ্রিক অবরোধ সংক্রান্ত বিষয় এবং যুদ্ধোত্তর পুনর্গঠনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হবে। দ্বিতীয় ধাপে পারমাণবিক কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের কাঠামো নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।
এদিকে যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতার ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক বার্তা এসেছে। জানানো হয়েছে, ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে আরোপিত নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনে স্বস্তি ফিরতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিভাবাদি জানিয়েছেন, সামরিক অভিযান বন্ধ করার বিষয়ে দুই পক্ষ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। তার মতে, মধ্যস্থতাকারীদের দীর্ঘ সময়ের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলেই এই প্রাথমিক সমঝোতা সম্ভব হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের সামরিক নেতৃত্ব দাবি করেছে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে তারা নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাদের অবিশ্বাস এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। তাদের মতে, বর্তমান চুক্তি স্থায়ী সমাধান নয়; বরং উত্তেজনা হ্রাস এবং ভবিষ্যৎ আলোচনার পথ সুগম করার একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অস্থিরতা কিছুটা কমতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য উভয় পক্ষের ধারাবাহিক আস্থা ও সহযোগিতা অপরিহার্য হবে।



