প্রকাশিত: জুন ১৯, ২০২৬, ০৯:১১ এএম
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতার পর মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে নতুন মোড় এসেছে। দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইরানের সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় আরোপিত সামরিক অবরোধ প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে দীর্ঘদিনের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্তৃপক্ষ এক ঘোষণায় জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোতে প্রবেশ ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে আর কোনো বাধা দেওয়া হবে না। পূর্বে জারি করা সামরিক নিষেধাজ্ঞা এবং অবরোধমূলক ব্যবস্থা তুলে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে এখনও কিছুটা সময় লাগতে পারে। কারণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে এখনো ইরানের আরোপিত অবরোধ বহাল রয়েছে। চলমান উত্তেজনার সময় এই কৌশলগত নৌপথে নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরক মাইন স্থাপন করা হয়েছিল বলে জানা যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতার জন্য হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌচলাচল নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিশ্বের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল এই পথ দিয়েই পরিবহন করা হয়। ফলে অবরোধ প্রত্যাহার হলে শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, ইরানও শিগগিরই হরমুজ প্রণালিতে আরোপিত সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়ার পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। সাম্প্রতিক কয়েক দিনে ওই নৌপথে কোনো ধরনের হামলার ঘটনা না ঘটায় কূটনৈতিক অঙ্গনে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উভয় পক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আন্তরিক থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাবে।



