প্রকাশিত: জুন ২৩, ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম
ইউরোপজুড়ে চলমান ভয়াবহ তাপপ্রবাহে জনজীবন মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ফ্রান্সে তীব্র গরমে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিও রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
ফ্রান্সের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। এই অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রার কারণে বহু এলাকায় আগের সব রেকর্ড ভেঙে গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কয়েকটি শহরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে, কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে বন্ধও ঘোষণা করা হয়েছে। জনজীবনে ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটছে, বিশেষ করে শ্রমজীবী ও বয়স্ক মানুষদের দুর্ভোগ বেড়েছে।
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি এলাকায় মর্মান্তিক ঘটনায় দুই ও চার বছর বয়সী দুই শিশু একটি গাড়ির ভেতরে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া বোর্দো অঞ্চলে কয়েকজন বয়স্ক ব্যক্তি তীব্র গরমজনিত শারীরিক জটিলতায় প্রাণ হারিয়েছেন। পাশাপাশি প্রচণ্ড গরম থেকে রক্ষা পেতে পানিতে নামার সময় ডুবে যাওয়ার ঘটনায় আরও বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইউরোপের অন্যান্য দেশেও তাপপ্রবাহের প্রভাব মারাত্মকভাবে পড়েছে। যুক্তরাজ্যে আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে জুন মাসের ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হতে পারে, যা প্রায় ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে ইউরোপে একটি বিশেষ আবহাওয়াগত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ তাপমাত্রা আটকে রাখছে। এর ফলে সাহারা মরুভূমি থেকে আসা উত্তপ্ত বাতাস ইউরোপে প্রবেশ করে দীর্ঘ সময় অবস্থান করছে এবং তাপপ্রবাহ আরও তীব্র হচ্ছে।
ইতালিতে একাধিক শহরে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ায় কিছু এলাকায় সাময়িক সমস্যা দেখা দিয়েছে। হাসপাতালগুলোতে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে বলে জানা যায়।
আবহাওয়াবিদ ও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে এ ধরনের তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন এবং ভয়াবহ আকারে দেখা দিতে পারে। এতে শুধু ইউরোপ নয়, গোটা বিশ্বের জনস্বাস্থ্য, কৃষি ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউরোপজুড়ে তাপজনিত সতর্কতা জারি থাকায় সাধারণ মানুষকে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।



