প্রকাশিত: জুন ২৯, ২০২৬, ১০:৫৩ এএম
আফগানিস্তানের মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে নতুন দিগন্ত উন্মোচনকারী প্রথম মহাকাশচারী আবদুল আহাদ মোমান্ড আর নেই। দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত থাকার পর জার্মানির স্টুটগার্টের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬৭ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর খবরে আফগানিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ, মহাকাশ গবেষক এবং অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী তার অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন।
১৯৫৯ সালের ১ জানুয়ারি আফগানিস্তানের গজনি প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন আবদুল আহাদ মোমান্ড। ছোটবেলা থেকেই উড্ডয়ন ও প্রযুক্তির প্রতি তার প্রবল আগ্রহ ছিল। পরবর্তীতে তিনি তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে সামরিক বিমান চালনার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফিরে আফগান বিমান বাহিনীতে যুদ্ধবিমানচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং দক্ষতার মাধ্যমে দ্রুতই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
১৯৮৮ সালের ২৯ আগস্ট তিনি সয়ুজ টিএম-৬ মহাকাশযানে চড়ে মহাকাশের উদ্দেশে যাত্রা করেন। ওই অভিযানে তিনি মীর মহাকাশ কেন্দ্রের কক্ষপথে প্রায় নয় দিন অবস্থান করেন। সফলভাবে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন করার পর ৭ সেপ্টেম্বর নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে আসেন। এই অভিযানের মাধ্যমে তিনি আফগানিস্তানের প্রথম মহাকাশচারী এবং মুসলিম বিশ্বের অন্যতম অগ্রগণ্য মহাকাশ অভিযাত্রী হিসেবে ইতিহাসে স্থায়ী স্থান করে নেন।
মহাকাশ অভিযানের সময় তিনি নিজের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের একটি কপি বহন করেছিলেন। মহাকাশ থেকে প্রথমবারের মতো কোরআন তিলাওয়াত করে তিনি এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। পাশাপাশি মাতৃভাষা পশতুতে মহাকাশ থেকে বার্তা পাঠিয়েও ইতিহাসের অংশ হয়ে যান। অভিযানের সময় তিনি আফগানিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ আলোকচিত্র সংগ্রহের পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক গবেষণাতেও সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
পরবর্তী সময়ে আফগানিস্তানের রাজনৈতিক অস্থিরতা, সংঘাত এবং গৃহযুদ্ধের কারণে তিনি পরিবারসহ জার্মানিতে চলে যান। জীবনের শেষ অধ্যায় সেখানেই কাটান এবং দীর্ঘদিন নীরবে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। অসুস্থতার সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর অবশেষে তার জীবনাবসান ঘটে।
বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণায় আবদুল আহাদ মোমান্ডের অবদান আফগানিস্তানের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার সাহস, নিষ্ঠা এবং অসাধারণ অর্জন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখাবে নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর। তার মৃত্যুতে শুধু আফগানিস্তান নয়, বিশ্ব মহাকাশ অঙ্গনও হারালো এক অনন্য পথিকৃৎকে।



