প্রকাশিত: জুলাই ১, ২০২৬, ০১:৪০ পিএম
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সীমান্ত পরিস্থিতিকে ঘিরে দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের দাবি করেছে। পাকিস্তান বলছে, আফগানিস্তান থেকে তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা চারটি ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে। অন্যদিকে আফগানিস্তান দাবি করেছে, পাকিস্তানের অভ্যন্তরে চরমপন্থী সংগঠনের কথিত অবস্থান লক্ষ্য করে সফল বিমান অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বেলুচিস্তান অঞ্চলের আকাশে প্রবেশ করা চারটি ড্রোন দ্রুত শনাক্ত করে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলো ভূপাতিত করে। তাদের দাবি, এসব ড্রোন আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে উড্ডয়ন করেছিল। পাকিস্তানের অভিযোগ, সীমান্তবর্তী এলাকায় সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
এ ঘটনায় কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পাকিস্তান সতর্ক করেছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে তার জবাব আরও কঠোরভাবে দেওয়া হবে। দেশটির সামরিক কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণে তারা প্রস্তুত রয়েছে।
অন্যদিকে আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, আফগান বিমান বাহিনী পাকিস্তানের বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলে চরমপন্থী সংগঠনের কয়েকটি কথিত ঘাঁটি লক্ষ্য করে পরিকল্পিত বিমান অভিযান পরিচালনা করেছে। আফগান পক্ষের দাবি, এই অভিযানে সশস্ত্র গোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং তাদের অবকাঠামোও ধ্বংস হয়েছে।
আফগান কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, অভিযান পরিচালনার সময় বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, হামলায় কোনো নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটেনি এবং অভিযান ছিল সম্পূর্ণ লক্ষ্যভিত্তিক।
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা স্থাপনায় হামলার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। ওই ঘটনার জেরে পাকিস্তান আফগান ভূখণ্ডে কথিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর অবস্থান লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান চালানোর দাবি করেছিল। এরপর থেকেই সীমান্ত পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে এবং দুই দেশের পারস্পরিক অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে সম্পর্ক নতুন করে চাপে পড়ে।
দীর্ঘদিন ধরেই ইসলামাবাদ অভিযোগ করে আসছে, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পাকিস্তানের ভেতরে হামলা চালায়। তবে কাবুল বরাবরই এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলছে, তারা কোনো দেশের বিরুদ্ধে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেয় না।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাল্টাপাল্টি সামরিক দাবি ও সীমান্ত উত্তেজনা যদি দ্রুত প্রশমিত না হয়, তাহলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে বিরোধ নিরসনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন পর্যবেক্ষকরা। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে আন্তর্জাতিক মহলের গঠনমূলক ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হচ্ছে।



