রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পারমাণবিক স্থাপনায় পরিদর্শনের সুযোগ নেই, স্পষ্ট জানাল ইরান

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২৬, ০৯:৫২ এএম

পারমাণবিক স্থাপনায় পরিদর্শনের সুযোগ নেই, স্পষ্ট জানাল ইরান

প্রতীকী ছবি

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়েছে—এমন প্রচারিত তথ্যকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে দাবি করেছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে কোনো আন্তর্জাতিক পরিদর্শককে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং এ বিষয়ে প্রচারিত খবর বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তিনি বলেন, হামলার শিকার হওয়া ফোরডো, নাতাঞ্জ এবং ইসফাহানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার কোনো প্রতিনিধি প্রবেশ করতে পারবেন না। এসব স্থাপনা জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় সেখানে প্রবেশের বিষয়ে ইরান অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।

গালিবাফের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের কার্যক্রম কেবল দুটি নির্ধারিত স্থাপনায় সীমাবদ্ধ রয়েছে। সেগুলো হলো বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং তেহরানের গবেষণা চুল্লি। এর বাইরে অন্য কোনো পারমাণবিক স্থাপনায় প্রবেশ কিংবা পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়া হয়নি।

তিনি আরও জানান, জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা বিবেচনায় ইরানের পার্লামেন্ট ইতোমধ্যে একটি আইন অনুমোদন করেছে, যার মাধ্যমে সংবেদনশীল পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তা কার্যকর করেছে। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী ভবিষ্যতেও এই বিধিনিষেধ বজায় রাখবে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন পক্ষের পক্ষ থেকে পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হলেও তেহরান বারবার জানিয়ে আসছে, দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি সম্প্রতি আশা প্রকাশ করেছিলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সমঝোতার অংশ হিসেবে সংস্থার পরিদর্শকরা শিগগিরই ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন। তবে গালিবাফের সাম্প্রতিক বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, অন্তত গুরুত্বপূর্ণ ও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর ক্ষেত্রে সেই সম্ভাবনা আপাতত নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে ইরান ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থার সংকট এখনো পুরোপুরি কাটেনি। ফলে পরিদর্শন, স্বচ্ছতা এবং নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। এ অবস্থায় তেহরানের সর্বশেষ অবস্থান আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!