রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আবারও ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল আফগানিস্তান

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২৬, ১২:২৯ পিএম

আবারও ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল আফগানিস্তান

প্রতীকী ছবি

উত্তর-পূর্ব আফগানিস্তানে আবারও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে একাধিকবার ভূকম্পন আঘাত হানায় সাধারণ মানুষের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। যদিও সর্বশেষ ভূমিকম্পে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের প্রাণহানি বা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, তবুও অনেক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে চলে আসেন।

ভূমিকম্পটি স্থানীয় সময় বুধবার রাত প্রায় সাড়ে দশটার দিকে অনুভূত হয়। সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৫। এর উৎপত্তিস্থল ছিল আফগানিস্তানের বাদাখশান প্রদেশের জুর্ম এলাকার গভীর ভূগর্ভে। উৎপত্তিস্থল অনেক গভীরে হওয়ায় ভূমিকম্পের কম্পন বিস্তৃত এলাকায় অনুভূত হলেও বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কা তুলনামূলকভাবে কম ছিল।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, আকস্মিক এই কম্পনে বহু মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ঘরবাড়ি থেকে দ্রুত বেরিয়ে খোলা স্থানে অবস্থান নেন। রাতের বেলায় ভূমিকম্প আঘাত হানায় শিশু, বৃদ্ধ ও নারীদের মধ্যে ভয় আরও বেশি দেখা দেয়। বিভিন্ন এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উদ্বেগপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আফগানিস্তানের ভৌগোলিক অবস্থান এমন একটি অঞ্চলে, যেখানে ভূমিকম্পের ঝুঁকি সবসময়ই বেশি। ভারতীয় ও ইউরেশীয় ভূত্বকীয় পাতের সংযোগস্থলে দেশটির অবস্থান হওয়ায় প্রায়ই ভূগর্ভে চাপ সৃষ্টি হয় এবং এর ফলেই বিভিন্ন মাত্রার ভূমিকম্প দেখা দেয়। বছরের বিভিন্ন সময় ছোট-বড় কম্পন দেশটির মানুষের জন্য নিয়মিত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এর আগেও গত জুন মাসে দেশটিতে আরও শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন এই কম্পন স্থানীয়দের মধ্যে পুরোনো ভয় ফিরিয়ে এনেছে। বিশেষ করে কয়েক মাস আগে সংঘটিত প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের স্মৃতি এখনও অনেক মানুষের মনে দুঃসহ হয়ে রয়েছে। ওই ঘটনায় বহু ঘরবাড়ি ধসে পড়ার পাশাপাশি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছিল।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য না মিললেও দুর্গম পার্বত্য এলাকাগুলোতে যোগাযোগ স্বাভাবিক না হওয়ায় সব তথ্য সংগ্রহে কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সম্ভাব্য পরাঘাতের আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হিসেবে আফগানিস্তানে দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিরাপদ অবকাঠামো নির্মাণ, আগাম প্রস্তুতি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করলে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!