প্রকাশিত: জুলাই ৩, ২০২৬, ০১:১৩ পিএম
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা শহীদ আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির সর্বজনীন বিদায় ও জানাজার আনুষ্ঠানিকতা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় শুক্রবার ভোর থেকে শোকাহত মানুষের ঢল নামতে শুরু করে। দুই দিনব্যাপী এই বিদায় অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে দেশ-বিদেশের ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, কূটনীতিক, গবেষক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা শহীদ নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
ভোরে আয়াতুল্লাহ খামেনির মরদেহ তাঁর শাহাদাতপ্রাপ্ত সঙ্গীদের মরদেহের সঙ্গে গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আনা হয়। এরপর প্রধান প্রার্থনা কক্ষে মরদেহ রাখা হলে হাজারো মানুষ নীরবতা ও দোয়ার মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। আয়োজকদের মতে, এই বিদায় অনুষ্ঠান শুধু একটি রাষ্ট্রীয় আয়োজন নয়, বরং ইরানের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ জনসমাগমে পরিণত হতে যাচ্ছে।
প্রথম দিনেই ইন্দোনেশিয়া, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, চীন, রাশিয়া, ভারত, জর্জিয়া, কিউবাসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদল অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। পাশাপাশি ইরানে স্বীকৃত ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থেকে শহীদ নেতার প্রতি সম্মান জানান। আয়োজকদের ভাষ্য, বিশ্বের শতাধিক দেশের প্রতিনিধি এই শোকানুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে তেহরানে পৌঁছেছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইমাম খোমেনি হুসাইনিয়ার সংলগ্ন এলাকায় প্রথম শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শহীদ নেতার পরিবারের সদস্য, সহকর্মী, নিকট আত্মীয় এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। শোকসভায় ধর্মীয় আবৃত্তি, শোকগাথা ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়। পুরো পরিবেশ ছিল গভীর শোক ও আবেগে পরিপূর্ণ।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান দেশবাসীর প্রতি এক বার্তায় ধর্ম, মতাদর্শ ও রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে এই বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্য, সংহতি এবং দেশের আদর্শের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অন্যতম প্রতীক হতে পারে এই গণবিদায়।
সরকারি সূত্রের ধারণা, কয়েক দিনব্যাপী এই শোকানুষ্ঠানে এক থেকে দুই কোটিরও বেশি মানুষের উপস্থিতি হতে পারে। গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে শোক মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পবিত্র ধর্মীয় নগরী কোমে বিশেষ কর্মসূচি পালিত হবে। পরবর্তী সময়ে ইরাকের বাগদাদ, কারবালা ও নাজাফেও স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে। সবশেষে আগামী ৯ জুলাই মাশহাদে তাঁকে দাফন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে ইরানের আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি একই দিনে এক বার্তায় বলেন, ইরানের ইতিহাসে ৩ জুলাই একটি বেদনাবিধুর দিন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৮৮ সালের এই দিনে পারস্য উপসাগরের আকাশে ইরানের একটি যাত্রীবাহী বিমান ভূপাতিত হয়ে ২৯০ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্য, সেই ঘটনার স্মৃতি এবং শহীদ নেতার বিদায়—দুটি ঘটনাই ইরানের ইতিহাসে গভীর বেদনার প্রতীক হয়ে থাকবে।



