প্রকাশিত: জুলাই ৪, ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্সে মানুষের অভূতপূর্ব সমাগম ঘটেছে। ভোর থেকেই বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ সেখানে উপস্থিত হতে শুরু করেন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ঢল এতটাই বেড়ে যায় যে কমপ্লেক্সের আশপাশের সড়কগুলোতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয় এবং অনেক পথ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই হাজার হাজার মানুষ প্রার্থনা কক্ষের সামনে অবস্থান নেন। ফজরের আজানের আগেই মানুষের উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই প্রবেশদ্বার খুলে দেয়। এরপর অপেক্ষমাণ শোকাহত মানুষ ধীরে ধীরে মূল প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত অধিকাংশ মানুষ কালো পোশাক পরিধান করে শোক প্রকাশ করেন। তাদের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা এবং প্রয়াত নেতার স্মরণে বহন করা বিভিন্ন ব্যানার ও ছবি। পুরো পরিবেশজুড়ে ছিল গভীর শোক, নীরবতা এবং আবেগঘন অনুভূতির প্রকাশ। ধর্মীয় প্রার্থনা, দোয়া এবং শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে উপস্থিত জনতা তাদের প্রিয় নেতাকে শেষ বিদায় জানান।
গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সের ভেতর ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা অল্প সময়ের মধ্যেই মানুষের উপস্থিতিতে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। নিরাপত্তা বাহিনী শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং আগত মানুষের চলাচল সহজ রাখতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল জনসমাগম ইরানের জনগণের আবেগ, শ্রদ্ধা এবং প্রয়াত নেতার প্রতি দীর্ঘদিনের আস্থার বহিঃপ্রকাশ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ তেহরানে এসে এই শোকানুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। সব মিলিয়ে রাজধানীর পরিবেশজুড়ে বিরাজ করছে গভীর শোকের আবহ, যেখানে লাখো মানুষের উপস্থিতি ইতিহাসের অন্যতম বড় বিদায় আয়োজন হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।



