রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

‘আমরা খামেনির রক্তের প্রতিশোধ নেব’ শোকাহত ইরানিদের হুঙ্কার

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ৪, ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম

‘আমরা খামেনির রক্তের প্রতিশোধ নেব’ শোকাহত ইরানিদের হুঙ্কার

ফাইল ছবি

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠানে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে তেহরান পরিণত হয় শোক, আবেগ এবং প্রতিশোধের আহ্বানে মুখর এক জনসমুদ্রে। রাজধানীর ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এসে শেষ শ্রদ্ধা জানান। অনুষ্ঠানজুড়ে অনেক শোকাহত মানুষ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

রাষ্ট্রীয় আয়োজনে কাচে সংরক্ষিত বিশেষ কফিনে খামেনির মরদেহ জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়। তাঁর পরিবারের যেসব সদস্য সাম্প্রতিক হামলায় নিহত হয়েছেন, তাঁদের কফিনও একই স্থানে রাখা হয়। শেষবারের মতো নেতাকে দেখতে এসে বহু মানুষ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। অনেককে অশ্রুসিক্ত চোখে দোয়া করতে এবং কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অনেকেই বলেন, খামেনির মৃত্যু তাঁদের ব্যক্তিগত শোকের চেয়েও গভীর বেদনার জন্ম দিয়েছে। কেউ কেউ দাবি করেন, এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়া তাঁদের নৈতিক দায়িত্ব। সমাবেশে লাল পতাকা বহনকারী বহু মানুষ প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলবিরোধী নানা স্লোগানও উচ্চারিত হয়।

ভোর থেকেই তেহরানের বিভিন্ন সড়ক, গণপরিবহন কেন্দ্র এবং অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশে মানুষের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। বহু মানুষ কয়েক কিলোমিটার পথ হেঁটে অনুষ্ঠানে অংশ নেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং পুরো এলাকা কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে রাখা হয়।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক হামলায় ৮৬ বছর বয়সে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। ওই হামলায় তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারান। সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ে দাফন সম্ভব হয়নি। পরে যুদ্ধবিরতির সুযোগে কয়েক মাস পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর জানাজা ও দাফনের আয়োজন করা হয়।

খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠান শুধু শোক প্রকাশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তা ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান, জাতীয় আবেগ এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক উত্তেজনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!