রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কঠোর নিরাপত্তায় সম্পন্ন হলো খামেনির প্রথম জানাজা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ৫, ২০২৬, ১২:০৮ পিএম

কঠোর নিরাপত্তায় সম্পন্ন হলো খামেনির প্রথম জানাজা

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ চার মাসেরও বেশি সময় পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রীয় মসজিদে রবিবার (৫ জুলাই) স্থানীয় সময় সকাল আটটায় এই ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। রাষ্ট্রীয় শোকের আবহে অনুষ্ঠিত জানাজায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। পুরো এলাকা কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে রাখা হয় এবং শোকাহত মানুষের উপস্থিতিতে পরিবেশ হয়ে ওঠে আবেগঘন।

ধর্মীয় এই আনুষ্ঠানিকতায় ইমামতি করেন বিশিষ্ট শিয়া আলেম আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি তাবরিজি। এর আগে খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি জানাজার নামাজে ইমামতি করবেন—এমন আলোচনা থাকলেও পরে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়, তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন না। এরপর শীর্ষ ধর্মীয় নেতার নেতৃত্বেই জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজাকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে কয়েক দিন ধরেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। মসজিদ ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। আগত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন প্রবেশপথে কড়া তল্লাশির ব্যবস্থা নেওয়া হয়। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতেও বিশেষ নজরদারি চালানো হয়।

ইরান সরকারের ঘোষণায় জানা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার প্রথম দিনেই আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত হন। এরপর বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে তার দাফন কার্যক্রম বিলম্বিত হয়। অবশেষে চার মাস পর আনুষ্ঠানিকভাবে জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

খামেনির মৃত্যুতে ইরানজুড়ে নয় দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে এবং বিভিন্ন সরকারি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ দোয়া ও স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে শোক মিছিল ও স্মরণসভায় অংশ নিচ্ছেন হাজারো মানুষ।

জানাজার আগে রাজধানীর গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে সাধারণ মানুষের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ রাখা হয়। সেখানে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। অনেকেই ফুল অর্পণ করেন, আবার অনেকে দোয়া ও প্রার্থনার মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ এই শেষ বিদায়ে অংশ নিতে রাজধানীতে সমবেত হন।

পর্যবেক্ষকদের মতে, খামেনির মৃত্যু ইরানের রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও কূটনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তার দীর্ঘ নেতৃত্বের পর নতুন বাস্তবতায় দেশটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব, আঞ্চলিক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি অনুযায়ী, জানাজার পর ধাপে ধাপে দাফনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও কয়েক দিন ধরে স্মরণসভা ও শোকানুষ্ঠান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!