প্রকাশিত: জুলাই ১০, ২০২৬, ১০:০৮ এএম
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে তার জন্মভূমি মাশহাদের ঐতিহাসিক ইমাম রেজা মাজারে সমাহিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে তার দাফন সম্পন্ন হয়। দীর্ঘ ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান ও আনুষ্ঠানিকতার পর এই দাফনের মধ্য দিয়ে ইরানের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।
দাফনের দিন মাশহাদ শহরের প্রধান সড়ক ও বিভিন্ন এলাকায় মানুষের ঢল নামে। শোকাহত মানুষ প্রিয় নেতার শেষ বিদায়ে অংশ নিতে সকাল থেকেই রাস্তায় জড়ো হন। পরে একটি বিশেষ শোভাযাত্রার মাধ্যমে খামেনির কফিন ইমাম রেজা মাজার প্রাঙ্গণে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ সময় উপস্থিত অনেকের হাতে ছিল খামেনির ছবি, শোকবার্তা লেখা প্ল্যাকার্ড ও প্রতীকী পতাকা। শিয়া ঐতিহ্যে ব্যবহৃত লাল রঙের পতাকা এদিনও দেখা যায়, যা আত্মত্যাগ ও প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
খামেনির ইচ্ছা অনুযায়ী তার জানাজা ও দাফনের স্থান হিসেবে ইমাম রেজা মাজারকেই নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী পবিত্র এই স্থানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘটিত এক হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন বলে জানা যায়। একই ঘটনায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারান। তাদের মধ্যে ছিলেন খামেনির নাতনি, মেয়ে, জামাতা এবং তার ছেলে মোজতবা খামেনির স্ত্রী জোহরা হাদ্দাদ আদেল। পরে তাদেরও খামেনির সঙ্গে একই স্থানে সমাহিত করা হয়।
এদিকে খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে আলোচিত তার ছেলে মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়েও নানা আলোচনা চলছে। হামলার পর থেকে তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি বলে জানা গেছে।
খামেনির দাফনের দিনও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। পারস্য উপসাগর ও ইরানের উপকূলীয় এলাকায় পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তীব্র গরম উপেক্ষা করে দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া মানুষ বিভিন্ন স্লোগান দেন। বিপুল জনসমাগম ও আবেগঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে শেষ বিদায় জানানো হয় ইরানের দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাকে।



