প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ১২:০০ পিএম
দক্ষিণ লেবাননে দীর্ঘদিন ধরে চলা ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের ফলে মানবিক সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। সরকারি হিসাবে, এ পর্যন্ত ওই অঞ্চলে ৯০ হাজারেরও বেশি বাড়িঘর আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং নতুন করে হামলার আশঙ্কায় ছয় লাখের বেশি মানুষ এখনো নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারেননি।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তবর্তী বিভিন্ন গ্রাম ও জনপদে ধারাবাহিক হামলার কারণে মানুষের স্বাভাবিক জীবন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে অস্থায়ী আশ্রয়ে বসবাস করছে। যেসব মানুষ নিজ এলাকায় ফিরে এসেছেন, তারাও প্রতিনিয়ত নতুন হামলার আশঙ্কায় ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, সংঘাতের কারণে শুধু বসতবাড়িই নয়, কৃষিজমি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষা ও সামাজিক অবকাঠামোও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে জীবিকা নির্বাহ কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার সীমিত সামর্থ্য দিয়ে ভাঙাচোরা ঘর মেরামত করে বসবাসের চেষ্টা করলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিস্ফোরণের শব্দ এখন তাদের নিত্যদিনের বাস্তবতা। শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক সবাই আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছেন। প্রতিনিয়ত নতুন হামলার আশঙ্কা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলছে।
সরকারি জরিপে উঠে এসেছে, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর ও অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে। তবে যুদ্ধের ক্ষত বহন করা সাধারণ মানুষের পক্ষে সেই ব্যয় বহন করা প্রায় অসম্ভব। ফলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া পুনর্গঠন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া কঠিন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক মানবিক আইন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। তারা সংঘাতপূর্ণ এলাকায় বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ক্ষয়ক্ষতির নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত বন্ধ হলেও দক্ষিণ লেবাননের মানুষের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা। ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো পুনর্গঠন, জীবিকা পুনরুদ্ধার এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের পুনর্বাসনে দীর্ঘ সময় ও সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন হবে।



