প্রকাশিত: জুলাই ১৩, ২০২৬, ১১:৫০ এএম
কুয়েতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের একটি আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ড্রোন হামলায় ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্ভুল ড্রোন অভিযানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের হিমার্স ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং এর সঙ্গে থাকা সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, কুয়েতে থাকা ওই সামরিক ব্যবস্থা ইরানের দিকে হামলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মোতায়েন করা হয়েছিল। পরিকল্পিত ড্রোন হামলায় এগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয় বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ওই হামলায় তিনজন মার্কিন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে এই দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযানের সময় ইরানের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালাতে স্বল্প পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছিল। এসব সামরিক সক্ষমতার অংশ হিসেবেই হিমার্স ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে তেহরান।
তবে ইরানের এই দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা কুয়েতের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে হামলার প্রকৃত ঘটনা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এর আগে কুয়েত জানিয়েছিল, দেশটির উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি স্থল সীমান্ত চৌকি এবং একটি তেল উত্তোলন স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং একজন কর্মী আহত হয়েছেন। তবে ওই হামলার জন্য কোনো পক্ষকে দায়ী করেনি কুয়েত।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্র দেশগুলোর মধ্যে সামরিক তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলে একের পর এক হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা অব্যাহত থাকলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপরও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।



