প্রকাশিত: জুলাই ১৫, ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করার দাবি করেছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ‘সায়েকেহ’ নামে পরিচালিত অভিযানের অষ্টম ধাপের আওতায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন পাঠানো হয়েছে। এ ঘোষণার পর অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন যুদ্ধবিমান এবং সামরিক সরঞ্জাম সংরক্ষণাগারকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে। তেহরানের দাবি, একই ঘাঁটিতে এটি তাদের দ্বিতীয় আঘাত। হামলার মাধ্যমে তারা নিজেদের সামরিক সক্ষমতার বার্তা দিতে চেয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
তবে হামলার ফলে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে কি না কিংবা লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ঘটনার প্রকৃত অবস্থা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা জর্ডানের সরকার এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। স্বাধীনভাবে ঘটনাটির সত্যতা যাচাই করাও সম্ভব হয়নি। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, উভয় পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না পাওয়া পর্যন্ত হামলার প্রকৃত চিত্র স্পষ্টভাবে নিশ্চিত হওয়া কঠিন।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। যদিও এসব ঘটনার প্রকৃত কারণ বা দায় কার, সে বিষয়ে নিরপেক্ষভাবে নিশ্চিত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণে ইরানের অভিযানের দাবির সঙ্গে এসব ঘটনার সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে অঞ্চলটিতে সামরিক উত্তেজনা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। একের পর এক পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের কারণে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ও কৌশলগত অবস্থানগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার দাবি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
কূটনৈতিক মহলের ধারণা, দ্রুত সংলাপ ও উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ না নেওয়া হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছে।



